অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আইফোন টেনের নকশার হিড়িক

iPhone-10

টেক ট্রাভেল ডেস্কঃ গত বছর সেপ্টেম্বরে আইফোন উন্মোচনের দশকপূর্তি সংস্করণ ‘আইফোন টেন’ উন্মোচন করেছে
প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল। ডিভাইসটি গ্রাহকের হাতে পৌঁছেছে আরো কিছুদিন পর। আইফোন টেন বাজারে আসার এক বছর
পেরিয়েছে। তবে এরই মধ্যে ডিভাইসটির নকশা প্রায় সব অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই কপি করা হচ্ছে।২০০৭ সালে প্রথম প্রজন্মের আইফোন উন্মোচন করেছিল অ্যাপল। পরবর্তী এক দশকে আইফোনের নকশায় তেমন কোনো
পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে দশকপূর্তি সংস্করণ হিসেবে বাজারে আসা আইফোন টেনের নকশা স্মার্টফোন বাজারের অন্য
যেকোনো ডিভাইস থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। অ্যাপলের পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, দশকপূর্তি সংস্করণ
হিসেবে বাজারে আনা আইফোন টেন বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলবে।
আইফোনের দশকপূর্তি সংস্করণ দিয়ে নতুন আঙ্গিকের ‘নচ’ ডিসপ্লের সঙ্গে পরিচয় করায় অ্যাপল। কী এই নচ
ডিসপ্লে? এর সুবাদে ডিভাইসের ফ্রন্ট প্যানেলের পুরোটা ডিসপ্লে হিসেবে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব হয়েছে। এক বছর
আগেও সাশ্রয়ী, মধ্যম কিংবা প্রিমিয়াম বাজেটের হ্যান্ডসেটের ডিসপ্লের ওপর ও নিচের অংশে উল্লেখযোগ্য অংশ
অব্যবহূত থাকত। মূলত ডিভাইসের নিচের অংশে মাউথপিস, উপরের অংশে ইয়ারপিস ও ফ্রন্ট ক্যামেরার জন্য এ জায়গা
রাখতে হতো। তবে নচ ডিসপ্লের সুবাদে ডিভাইসের উপরের অংশে ইয়ারপিস ও ফ্রন্ট ক্যামেরার জন্য অতি সামান্য জায়গা
বাদে পুরোটা ডিসপ্লে হিসেবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়েছে। প্রশ্ন দেখা দিতে পারে, এটা এমন কী উদ্ভাবনী প্রযুক্তি? এই
নচ ডিসপ্লের কারণে ডিভাইসের ফ্রন্ট প্যানেলের পুরোটা ডিসপ্লে হিসেবে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে। এতে ছোট হয়ে
এসেছে ডিভাইসের আকৃতি। এখন ৫ ইঞ্চি ডিসপ্লের একটি স্মার্টফোনের আকৃতি আগের ৫ ইঞ্চি ডিসপ্লের ডিভাইসের
তুলনায় অনেক ছোট হয়ে এসেছে। ফলে সহজেই মুঠোবন্দি করা যাবে পছন্দের হ্যান্ডসেটটিকে। উদ্ভাবনী নচ ডিসপ্লে কে
প্রথম এনেছে? তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।
বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নচ ডিসপ্লের প্রথম স্মার্টফোনটি এনেছে অ্যান্ড্রয়েড স্রষ্টা অ্যান্ডি
রুবিনের স্টার্টআপ এসেনশিয়াল। আইফোন টেন উন্মোচনের কয়েক মাস আগেই প্রথম এসেনশিয়াল ফোন উন্মোচন করা
হয়েছিল। তবে আইফোন টেনে ব্যবহারের আগে খুব বেশি আলোড়ন তুলতে সমর্থ হয়নি নচ ডিসপ্লে। কিন্তু আইফোন টেনে নচ
ডিসপ্লের ব্যবহার শুরুর পর প্রায় সব ব্র্যান্ডের অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই এখন নচ ডিসপ্লে ব্যবহার হচ্ছে।
সৃজনশীল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী নকশার ক্ষেত্রে অ্যাপলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ও
ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাপলের উদ্ভাবন নয়। তবে আইফোনে ব্যবহার শুরুর আগে এ দুই প্রযুক্তিও খুব বেশি সাড়া
ফেলতে পারেনি। এখন এমন কোনো স্মার্টফোন নেই, যাতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার হচ্ছে না।
২০১৩ সালে যখন আইফোন ৫এসে টাচ আইডি প্রযুক্তির পরিচয় করায়, তখন অন্য ডিভাইস নির্মাতা তাদের হ্যান্ডসেটে
ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ব্যবহার শুরু করেছিল।
বহুজাতিক অসংখ্য প্রতিষ্ঠান এখন মোবাইল ডিভাইস তৈরি করছে। এক্ষেত্রে একে অন্যের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও নকশা
কপি করছে। কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড ফোন নির্মাতারা আইফোনের প্রযুক্তি ও নকশা কপি করে সামনের দিকে এগোচ্ছে, নাকি
পিছিয়ে পড়ছে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, অনেক নতুন স্টার্টআপ সৃজনশীল প্রযুক্তি ও নকশার হ্যান্ডসেট সরবরাহ করছে। সমস্যা হলো, এসব
স্টার্টআপের উদ্ভাবন গ্রাহক পর্যায়ে সাড়া ফেলতে পারছে না। তবে আইফোনের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডে একই প্রযুক্তি
বা নকশা ব্যবহার হলে প্রযুক্তিবিশ্ব তা লুফে নিচ্ছে। বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে অ্যান্ড্রয়েডচালিত ডিভাইস একচ্ছত্র
আধিপত্য বিস্তার করে আছে। কাজেই অ্যান্ড্রয়েড ফোন নির্মাতা চাইলে অ্যাপলকে অনুসরণ না করে নিজেরাই প্রথম
উদ্ভাবনী প্রযুক্তির পরিচয় করাতে পারে। এমনটা হলে তা তাদের ব্যবসার জন্য ইতিবাচক হবে।