ফেসবুকে প্রেম, নারীর কোটি টাকা শেষ তবুও…

মোঃ সাফায়েত হোসেন, (কুমিল্লা)নাঙ্গলকোট প্রতিনিধিঃ বিশাখা দেবী। বয়স তার একান্ন বছর। এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন তার। ছেলে থাকেন ভারতের পুনেতে আর মেয়ে গুরুগ্রামে। বছর দুয়েক আগে স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। বিশাখা কলকাতার গড়িয়াহাটে অভিজাত আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকেন। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি এ্যাকাউন্ট খোলেন। ফেসবুকে তার বন্ধুত্ব হয় মণীশ কুমার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। সেই বন্ধুত্ব পরে গড়ায় প্রেমে। উপহার আদান-প্রদানও শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত প্রেমিকের পাঠানো উপহার নিতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন বিশাখা। ২৩ মার্চ কলকাতা পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগে অভিযোগ করেছেন তিনি। অভিযোগে জানিয়েছেন, মণীশ কুমার নিজেকে ইংল্যাণ্ডের বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। বলেছিলেন তিনি পেশায় একজন পাইলট।

বন্ধুত্বের সূত্র ধরেই মণীশ কুমার একদিন বিশাখা দেবীকে জানান যে, তিনি কিছু প্রসাধন সামগ্রী পার্সেল করে পাঠিয়েছেন উপহার হিসাবে। সেগুলো ছাড়িয়ে নিতে জয়পুরে জনৈক সেলিম খানের অ্যাকাউন্টে ৪৫ হাজার টাকা জমা করতে বলেন। বিশাখা ওই টাকা জমা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, এর পরে মণীশ তাকে জানান আসলে ওই পার্সেলে প্রসাধন সামগ্রী নয়, আছে প্রায় ৭০ হাজার ডলার মূল্যের গয়না। ভারতীয় মুদ্রায় যা ৪৮ লাখেরও বেশি। পার্সেলে থাকা গয়নার হদিশ পেয়ে গিয়েছেন শুল্ক দফতরের কর্তারা। তাই স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে টাকা দিতে হবে ওই পার্সেল ছাড়াতে। মণীশের কথা বিশ্বাস করে পরবর্তী দুই সপ্তাহে দফায় দফায় সাড়ে ৮৯ লাখ ভারতীয় টাকা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় কোটি টাকার বেশি, জমা দিয়েছেন বিশাখা। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ১১টি আলাদা আলাদা ব্যাঙ্কে জমা করেন ওই মহিলা। তারপরেও পার্সেল না আসায় তিনি বুঝতে পারেন যে, প্রতারিত হয়েছেন।