অপরুপা শুভলং

Exif_JPEG_420
Exif_JPEG_420

মুহাম্মদ শাফীউল ইসলাম,চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম : শুভলং একটি অপরুপ অঞ্চল, যা অসংখ্য সবুজ শ্যামল পাহাড়ে ঘেরা একটি পর্যটন এরিয়া। এতে ভ্রমন পিয়াসুরা অত্যান্ত তৃপ্ত সহকারে তাদের ভ্রমনকে উপভোগ করবে। অঞ্চলটি রাঙ্গামাটি সদর হতে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শুভলং বাজারের পাশেই শুভলং ঝর্ণার অবস্থান। বর্ষাকালে প্রায় ১৪০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে বিপুল জলধারা কাপ্তাই লেকে আছড়ে পড়ে,তবে শীত কিংবা বর্ষা ব্যতিত অন্য সবকালেই ঝর্ণাটি শুকনো থাকে,পানি থাকেনা।শুভলংয়ের পথ খুবই সুন্দর যা একজন ভ্রমন পিয়াসুর পিপাসা নিবারনে সক্ষম। পাহাড়ের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া লেক এবং পথ দেখে পর্যটকের মনে হবে যেন অন্য এক দেশে ভ্রমন করছে।

ঝর্ণার সৌন্দর্য্য পর্যটকদের বিমোহিত করে তুলবে। পাহাড়ের উপর থেকে পাথুরে মাটিতে ঝর্ণাধারা আছড়ে পড়ার অপূর্ব দৃশ্য দেখে মহান স্রষ্টাকে স্বরন করতে একজন পর্যটক বাধ্য। অতিরিক্ত কাপড় সাথে নিলে ঝর্ণার শীতল পানিতে ভিজে শরীরকে প্রশান্ত করে নিতে পারবেন। শুভলং পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ২০০০ ফুট। এই পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে ছোট্ট একটি সেনাক্যাম্প ও একটি টিঅ্যান্ডটি টাওয়ার। পাহাড়ে ওঠতে বেশ চমৎকার একটি সিঁড়িও রয়েছে।

যাতায়াতঃ

ঢাকা হতেঃ ঢাকা হতে রাঙ্গামাটিগামী অনেক বাস রয়েছে। এই বাসগুলো সাধারণত সকাল ৮ টা থেকে ৯ টা এবং রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১১ টার মধ্যে ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঢাকা টু রাঙ্গামাটি এসি বাসের প্রতি সীট ভাড়া ৯০০ টাকা, বিআরটিসি এসি বাসের ভাড়া ৭০০ টাকা। এছাড়া সকল নন-এসি বাসের ভাড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে। (কম/বেশিও হতে পারে)

চট্টগ্রাম হতেঃ চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন মোড় থেকে রাঙ্গামাটিগামী বিভিন্ন পরিবহণের লোকাল ও গেইটলক/ডাইরেক্ট বাস পাওয়া যায়। অথবা বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকেও রাংগামাটিগামী বাস পাওয়া যায়, অথবা কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে  সি এন জি যোগে যাওয়া যায়।  চট্টগ্রাম হতে রাঙ্গামাটি ডাইরেক্ট বাস ১শ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।

অতঃপর রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার থেকে শুভলং যাবার নৌকা সারাদিনের জন্য ভাড়া করতে হবে। এর ফলে শুভলং ঝর্ণা ছাড়াও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে পারবেন। এখানে সাধারণত নৌকার সাইজের উপর ভাড়া কম বেশি হয়ে থাকে। তবে মোটামুটি সাইজের একটা নৌকা ১০ থেকে ১৫জন ১০০০-১৫০০ টাকার মধ্যে ভাড়া করা যায়। শুভলং পর্যন্ত যেতে প্রায় এক থেকে দুই ঘন্টা সময় লাগবে। শুভলং যাত্রা পথে আরো বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান রয়েছে যা দেখা পর্যটকদের সময় ও বোট চালকের সাথে কথা বলে নেয়ার উপর নির্ভর করে। এছাড়া যদি ভ্রমণসঙ্গী এত জন না থাকে তাহলে রিজার্ভ বাজার থেকে জনপ্রতি প্যাকেজে ঘুরে আসতে পারবেন দর্শনীয় স্থানগুলো।

থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাঃ

শুভলং পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এখানে থাকা ও খাওয়ার জন্য উন্নত মানের কোন ব্যবস্থা নেই। তাই আপনাকে দিনে গিয়ে দিনেই রাঙ্গামাটি ফিরে আসতে হবে। হালকা নাস্তাজাতীয় খাবার পাওয়া যাবে।তবে পেডা টিং টিং এ খাবার গ্রহনের ব্যবস্থা আছে। যদিও পেডা টিং টিং এ দেখার মত কিছুই নেই।

কয়েকটি আবাসিক হোটেলঃ

হোটেল গ্রিন ক্যাসেল :এটি রিজার্ভ বাজারে অবস্থিত। বেডের উপর রুমের ভাড়া নির্ধারণ হয়ে থাকে। ৮০০, ১০০০ ও ১২০০ টাকা। এসি কাপল বেড রুম পাবেন ১৬০০ টাকায় ও এসি ত্রিপল বেড রুম পাবেন ২০০০ টাকার মধ্যে। যোগাযোগঃ ০১৭২৬৫১১৫৩২, ০১৮১৫৪৫৯১৪৬

পর্যটন মোটেল : রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজের পাশে অবস্থিত এ হোটেলটি, রুম পেতে ১০০০-১২০০ টাকা গুনতে হবে। আর এসি ডাবল বেড পাবেন ১৫০০-১৮০০ টাকায়। যোগাযোগঃ ০৩৫১-৬৩১২৬

রংধনু গেস্ট হাউজ : এই গেস্ট হাউজে ফ্যামিলি বেড বা কাপল বেড ভাড়া নিতে খরচ পড়বে যথাক্রমে ৬৫০ ও ৫০০ টাকা। যোগাযোগঃ ০১৮১৬৭১২৬২২, ০১৭১২৩৯২৪৩০

হোটেল আল-মোবা : নতুন বাস স্টেশন, রিজার্ভ বাজার। যোগাযোগঃ ১৮১১৯১১১৫