থাইল্যান্ড ভ্রমণঃ ১১তম পর্ব

Thailand11

মাহাতাব লিটনঃ সবাই জাহাজে ফিরল কিনা একবার গাইড ভাল করে দেখে নিলেন। বলতে ভুলে গেছি আমরা যখন মাইক্রোবাসে উঠি তখনই সবাই স্বাক্ষর করি। আমি আমার নাম লেখালাম “মাহতাব”। কেন লিখালাম সেটা জানিনা। তবে ছোট বেলায় শহীদ সামাদ স্কুলে সবাই আমাকে মাহতাব বলেই ডাকত।

লিটন নামটা চেপে গেলাম। তিনবছর আগে লংকায় একজন প্ল্যান স্টাফ আমাকে লাইটন বলেছিলেন…… এরপর দেশে ফিরে যখনই ডাঃ নুরুল হুদা স্যারের ( সাবেক সিভিল সার্জন-দিনাজপুর) সাথে দেখা হতো তিনি বলতেন

-কি লাইটন সাহেব কেমন আছেন?

শুনতে বেশ ভালই লাগত, শ্রী লংকায় সেবার ভীষণ মজা করে ছিলাম। সে গল্প না হয় অন্যদিন হবে।

আমাদের ছোট নৌকার মাঝিরা তাদেরই লোক মানে প্যাকেজ ব্যবস্থাপনা পিপিটির, তাই বিনা অনুমতিতে বিলম্ব মোটেও গ্রহনযোগ্য নয়।

একটু পর পর পানি গিলছি না পান করছি সে বিতর্কে যাব না।

এবার আমাদের নামনো হল বিশাল লম্বা আকৃতির একটা কাঠের নৌকায়। দেখতে অনেকটা বাইচের নৌকা। আর ক্লাশের সিট

বেঞ্চের মত, সারি সারি সিট, পাশাপাশি তিনজন বসা যায়। পেছনে ভটভটি না স্যালো মেশিন নয় উন্নত মেশিন। মিনিট পাঁচেকর মধ্যে স্বপ্নের ” জেমস্ বন্ড আইল্যান্ডে” অবতরণ না উত্তোলন কারণ প্রত্যেক যাত্রীকে টেনে টেনে তুলতে হয়েছে।

মাশাল্লাহ্ তখনই টের পাই যখন অন্যের সাহায্য নিলাম আমার ওজন কম না বেশি।

গাইডের নরম কিন্তু বেশ ওজন ওয়ালা সংলাপ প্রক্ষেপন

– টাইম অনলি টুয়েন্টি মিনিটস্।

সেকি অনেক ভীড়, আমাদের আগেই অনেক পার্টি চলে এসেছে।

ছোট্ট নৌকা ঘাট থেকে সামনেই গেলেই গোটা বিশেক ছোট ছোট দোকান, বিক্রেতা নারীগণ। নানা রঙের পসরা ঝিনুক শামুক আর নারকেলের খোল দিয়ে তৈরি, শো-পিচ। টুপি, রোদ চশমা আরো কত কি।

প্রতিটি নারী বিক্রেতা হিজাব পরিহিত এদের মধ্যে বেশির ভাগই মধ্য বয়সী। বুঝতে পারি এখানেও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাব অনেক বেশি। একটু আঁচ করতে পেরেছিলাম ফুকেটের বড় মসজিদ আর মিনার দেখে।

নিশ্চয়ই, সারাদিনের বেচাকেনার পর এরা ফিরে যাবে আবার ফুকেট বা অন্য কোথাও যেখানে তাদের নিজ আবাস। এই দূর সমুদ্রে ছোট্ট পাহাড় কেন্দ্রীক আইল্যান্ডে মানুষের বসতির তিল চিহ্ন মাত্র নাই। (চলবে)

লেখকঃ মাহাতাব লিটন, প্রজেক্ট ম্যানেজার, WMPL