থাইল্যান্ড ভ্রমণঃ ১২তম পর্ব

Thailand12

মাহাতাব লিটনঃ নিসর্গের মায়ায় আমাদের মত ভ্রমণপিপাষু যাত্রীরা শুধু অবাক দৃষ্টিতে দেখছিলাম। কি অপূর্ব সৃষ্টি মহান সৃষ্টিকর্তার। জেমস্ বন্ড আইল্যান্ড থেকে ফিরে এলাম ছোট্ট তরীতে, এবার গাইডের মাইক্রোফোনে ঘোষণা মধ্যাহ্ন ভোজের আমন্ত্রণ। শিপের মাঝে গরম গরম খাবার তৈরি, বুফে স্টাইলে সাজানো, সবাই সারিবদ্ধভাবে যার যেমনটা পচ্ছন্দ যার প্লেটে খাবার তুলে নিচ্ছে। চিকেন, সি ফিস, নুডুলস, রাইস, সবজী সব প্রস্তুত। আইস বক্সে পানির ছোট ছোট জার, সফট্ ড্রিংক্স, আনলিমিটেড যার যেমন যতটুকু খেতে ইচ্ছে করে। সবাই খাচ্ছে দাচ্ছে। কি দারুণ শৃঙ্খলা। খাবারের উচ্ছিষ্ট গুলি নিদির্ষ্ট স্থানে রেখে দিচ্ছে।

এখানকার রোদের তীব্রতা অনেক বেশি, শরীর সচেতন অনেকেই দেখেছিলাম সান প্রোটেকশন ক্রিম সারা দেহে মুখে মাখতে, একটু হাসি পেয়েছিল মিশরীয় নাগরিক মুস্তফা যখন ওর সারা শরীরে ক্রিমটা লাগাচ্ছিল, কারণ ওর পুরো দেহটাইতো ঘন কালো লোম দিয়ে ঢাকা যা দৃশ্যমান। লিভার ব্রাদার্স পেলে ওকে দিয়ে নিশ্চয়ই একটা ফেয়ার এ্যান্ড লাভলীর এ্যাড বানাতো। ওর স্ত্রীর সারা শরীরতো কালো বোরখায় ঢাকা, সে ইচ্ছে করলে মুখটায় লাগাতে পারতো। না সে বরং ছোট্ট ৫ মাসের কন্যাকে নিয়ে ব্যস্ত।

বলে রাখা ভাল আমাদের জাহাজটা কিন্তু থেমে নেই সে চলতে চলতে মিনিট বিশেক পড়ে এবার অার একটি দ্বীপের সামনে এসে দাঁড়াল, তারপর মেদযুক্ত রসিক গাইড মাইক্রোফোন হাতে সবাইকে সাঁতার কাটার আহবান জানালেন।

তার আগে লম্বা একটা দড়ি ছুঁড়ে দিলেন সাগরে। আমাদের বাঙ্গালি পর্যটকেরা ভীতু তাই লাইফ জ্যাকেট বা বয় গায়ে দিয়ে নামার প্রস্ত্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু ইউরোপীয়ান আর আমেরিকানরা কাল বিলম্ব না করে জাহাজের উপর থেকে ড্রাইভ, ছোট বেলায় দেখা সেই টারজান যেন ফিরে এলো।

এবার বুঝতে পারলাম কি কারণে সাদা চামড়ার মানুষগুলি সেই সকালবেলা থেকে কেন সুইমিং ড্রেস পড়ে আছে। সবুজ দ্বীপের কারণে সাগরের পানির রঙ টাও স্বচ্ছ সবুজ, কে না চাইবে এমন জলরাশিতে একটু সাঁতার কাটতে একটু সময় সাগর জলে ভাসতে।

আমাদের পরিবারের সবচেয়ে ক্ষুদে সদস্য সবার আগে সে প্রস্ত্তুত সে নাকি সাঁতার কাটবে। তাঁর মা জননী সেতো মহা উত্তেজিত কখন নাইবে সাগর জলে। বড় কন্যা ক্যামেরা হাতে জাহাজ থেকেই এনজয় করছিল, কিন্তু সাগরে নামার কোনো ইচ্ছার ছাপ তার চেহারায় প্রতিফলিত হচ্ছিল না। এর মধ্যেই মুস্তফার স্ত্রী, কন্যাদ্বয়, এবং আমরা ছাড়া সবাই জলকেলিতে ব্যস্ত। এবার আমাদের পরিবারের পালা, প্রথমে তিনি, এরপর ছোট কন্যা স্রোতস্বিনী কি আশ্চর্য ওরা নামার সাথে সাথে আমিও নেমে গেলাম।

ছোট কন্যাতো সাঁতার জানে না, তাকে লাইফ জ্যাকেট পড়িয়ে একটা বয়ার মধ্যে মানে ভেতরে বসিয়ে দিলাম। কি অদ্ভুত দেখে মনে হচ্ছে ও যেন সাঁতার জানে, ছোট ছোট হাত পা নাড়িয়ে, সাগর জলে ভাসছে, আবার ফোকলা দাঁতে হাসছে। কি আপ্রাণ চেস্টা সাঁতার শেখার সবার মত জলে ভাসার।

বলে রাখা ভাল ভীষণ রকমের লবণাক্ত জলে চোখ জ্বলবে কিন্তু, আমারতো রীতিমত দুই চোখ জ্বলছিল। ছোটকন্যার ব্যাকআপ হিসেবে আমি তাঁর সাথে সাথে দুই হাতে তাকে ধরে আছি আর দুই পায়ে সাঁতারর কাটছি, সেকি আমি সামনে না এগিয়ে পেছনে যাচ্ছি। (চলবে)

লেখকঃ মাহাতাব লিটন, প্রজেক্ট ম্যানেজার, WMPL