থাইল্যান্ড ভ্রমণঃ ১৪তম পর্ব

Thailand 14

মাহাতাব লিটনঃ দূরে দেখছিলাম ছোটে ছোট জাহাজ নোঙ্গর ফেলেছে, মাঝে মাঝে স্পিড বোট গুলি সাগর জলে তুফান তুলে আমাদের ছোট্ট জাহাজটিকে অতিক্রম করছিল। এবার জাহাজ থেকে নামার পালা, একে একে সবাই নামছে নামার আগে বিদায়ের সুর বাজছে বাতাসে বাতাসে মনে মনে, ইস্ এতো তাড়াতাড়ি সাগর ভ্রমণ শেষ।

যার সাথে যার ভাব হয়েছিল তারা তারা মিলে শেষবারের মতো ফটোসেশন চলছে। তা আমরা তিনটি পরিবার একটি গ্রুপ ছবি তুলব কিন্তু তুলবে কে ? শেষে এক ইরানী তরুন এগিয়ে এলো আমাদের ছবি তুলে দিল। তরুনটি বেশ রসিকও বটে। ডিএসএল ক্যামেরাটিকে মোবাইল ফোন বানিয়ে আমাদের সাথে সেলফি তুলল।

জাহাজ থেকে নামার আগেই আমাদের কন্যা স্রোতস্বিনী মিশরীয় কন্যা শিশু খাদিজার হাতটি শক্ত করে ধরল। যেন ওকে ছাড়বেই না। চোখের কোনায় বিন্দু বিন্দু জলের মাত্রা বাড়ছিল। বুঝতে বাকি রইল না বান্ধবীকে হারানোর শোকজলের প্রবাহ এটি।

ওরা দুজনেই পুরো জাহাজটিকে জমিয়ে রেখেছিল। একবারতো স্রোতস্বিনী তাঁর লম্বা কেশগুলি দিয়ে চোখ মুখ ঢেকে ভয় দেখাচ্ছিল। খাদিজাও সত্যি সত্যি ভয়ের ভান করে দৌড়ে দৌড়ে পালাচ্ছিল। ওদের রোল প্লে দেখে জাহাজের সবাই খুউব মজাও পেয়েছিল।

অবাক কান্ড জাহাজ থেকে নেমেই দেখি আমাদের পরিবারের দুটি ছবি বাধাঁনো ফ্রেমে । বাহ্, অসাধারণ ঝিনুক দিয়ে কারুকাজ করা ছবির ফ্রেমটা সাজানো। কিন্তু আমাদের ছবি এখানে এলো কি করে। জাহাজের আগে ছবি কি করে সম্ভব হল তাই ভাবছিলাম। আমরা সারাদিন ছিলাম সাগরের দ্বীপে দ্বীপে ঘুরে বেড়ালাম, শুধু আমাদের ছবি না, প্রতিটি যাত্রীর ছবি প্রিন্ট করা এবং সুন্দর পৃথক পৃৃথক ফ্রেমে বাঁধানো।

এবার মনে পড়ল আমরা যখন সেই প্লাস্টিকের নৌকায় করে ঘুরছিলাম দেখেছিলাম পাথরের দ্বীপে কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে একজন মাঝ বয়সী লোক প্রথমে মনে হয়েছিল লোকটি মাছ ধরছে কিন্তু আমাদের নৌকাটি তাঁর কাছে যেতেই বুঝতে পারলাম ইনিতো আমাদের দলের লোক মানে সে ডিএসএলআর ক্যামেরায় ছবি তুলছিল।

এবার অনেকটা ম্যাজিকের মত হল বিষয়টা তিনি ছবি তুললেন দূর সাগরদ্বীপে আর জাহাজ থেকে নেমেই আমাদের জাহাজের সবার ছবি তৈরি মানে প্রিন্ট করা এবং বাঁধানো।

এরপর ,অঙ্কটা মিলে গেল সেই মুহূর্তটি ধারন করে ভদ্রলোক ইথারে পাঠিয়ে দিয়েছেন বন্দরের কোন কালার ল্যাবে। তখন সেটা গুরুত্ব দেইনি কিন্তু তখন বেশ মজা পেয়েছিলাম। এমন অভিজ্ঞতা এই প্রথম। কি বলেন ইন্টারনেটের যুগ সবই সম্ভব।

সুন্দর করে বাঁধানো ছবিগুলি কিনতে ভীড় জমে গেল কে কিনবে আগে। কিন্তু দামের কথা শুনে আমরা কেনার ইচ্ছাকে দমন করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করলাম (চলবে)

লেখকঃ মাহাতাব লিটন, প্রজেক্ট ম্যানেজার, WMPL