থাইল্যান্ড ভ্রমণঃ ১৫তম পর্ব

Thailand 15

মাহাতাব লিটনঃ একটা ছবি ৩০০ বাথ মানে আমাদের টাকায় ৮১০/-, ১টা 3R ছবি এতো দাম। পরামর্শ যারা এরপর এমন প্যাকেজ ট্যুরে যাবেন। প্রতি স্পটের জন্যে গড়ে অতিরিক্ত ৩০০ বাথ বাজেটে সংযুক্ত করবেন।

আমরা ফিরে এলাম, সেই একই গাড়ি একই পাইলট আমাদের অপেক্ষায় আছে। আমাদের মত আরও যাত্রীদের জন্য সারি সারি গাড়িগুলি অপেক্ষামান। মজার বিষয় হল পাইলটের পাশে ছোট্ট কন্যা শিশু ও নারীকে বিকেলে বেলায় আবার আমাদের গাড়িতে সেই পাইলটের পাশে। বুঝলাম এরা দু’জন পাইলটের নিকটজন, মানে স্ত্রী ও কন্যা। একফাঁকে যাচাই করে নিলাম। উত্তর ছিল পাইলটের

– ছুটির দিন পরিবারের আর আমার চাকুরী দুটোই একসাথে।

বলে মুচকী হাসলেন, এরপর যাত্রীদের নাম দেখে একবার ক্রস চেক করে নিলেন। তারপর গাড়ি স্টার্ট করলেন আবারও পাহাড়ের আকা বাকা উঁচুনীচু সুন্দর ছিমছাম পিচ পথ পেড়িয়ে আবার সবাইকে হোটেলে নামিয়ে দিল। আমরা যারা সবার আগে গাড়িতে উঠে ছিলাম তারা সবার আগে নামলাম।

অফ দ্য রেকর্ড আমরা ছাড়া সবাই কিন্তু ফাইভ স্টার হোটেলের যাত্রী ছিল। আমি যে থাকিনি তা নয় ২০০৪ করাচিতে শেরাটন, ইসলামাবাদে হলিডে ইন, শ্রী লংকায় গলে ফেস অন্যতম। যদিও সবই ছিল অফিসিয়াল ট্যুর। বাংলাদেশের তারকা হোটেলে আহার করেছি বহুবার কিন্তু রাত্রিযাপন হয়নি একবারও। সে যাই হোক,

মনে মনে ইচ্ছে আছে ব্যাংককে থাকব কোনো এত তারকা হোটেলে।

(হে ফাইভ স্টার তুমি আরও সহজলভ্য হও) তখনও সূর্য অস্ত যায়নি, একটু ফ্রেস হয়ে আবার বেড়িয়ে পড়া। আসছিতো ঘুরতে ঘুমাতে নয়। মাশআল্লাহ্ আমাদের এনার্জির ঘাটতি ছিল বিন্দু মাত্র। মাঝে মধ্যে বড়কন্যার এনার্জি ফল করছিল আসলে ইংরেজী মাধ্যমে পড়া ছেলে মেয়েরা কি এমনটাই হয়। এদের আবেগ অনুভূতিগুলি কমে আসে কেমন জানি ধীরে ধীরে আত্ম কেন্দ্রীক হয়ে উঠে।  কোন কিছুতেই তারা উত্তেজিত হয়না, আবেগতাড়িত হয়না।

তা আমরাও সিটি ট্যুরের আশায় এজেন্সীগুলি খুঁজছিলাম হাঁটতে হাঁটতে আবার সেই পিপিটি এজেন্সীর মিঃ বুনের সাথে, সে আমাদের দেখেই চিনতে পারল।জিজ্ঞেস করল

– কেমন ছিল তোমাদের ট্যুর।

আমরা ধন্যবাদ দিলাম। সত্যিই সত্যিই একটা স্মরণীয় দিন।  এবার আমাদের উদ্দেশ্য বলতেই সেও লুফে নিল, আচার আচরণে, আলাপচারিতায় সাথে দন্ত দর্শন, আর মাকের্টিং সে ভালই দক্ষ। নানা ভাবে সিটি ট্যুরের ভালদিক তুলে ধরল। অনেকটা সময় ব্যয় হল। তবে আমাদের লাভ হল। প্রায় ১০০০ হাজার বাথ (২৭০০ টাকা ) রক্ষা পেল। মাত্র ৩৪০০ বাথে আমাদের প্যাকেজ চুড়ান্ত হল। একটি রশীদ কেটে আমাদের হাতে ধরিয়ে দিল। মনে রাখবেন দরাদরি চলে তবে সেটা যেন হয় পরিমিত।

আমার মত যারা নতুন যাবেন প্রথমেই যে কোন প্যাকেজের টোপ গিলবেন না, পাশে আরও প্যাকেজ ট্যুরের এজেন্সী আছে একবার যাচাই করে নেন। দেখবেন জিতবেন, ঠকবেন না। কিছু থাই বাথ বাঁচবে, সেই টাকা দিয়ে অন্য কিছু করতে পারবেন বা কিনতে পারবেন।  মিঃ বুন আবারও সতর্ক করল আমাদের টাইমের ব্যাপারে

– যদি দেরি কর গাড়ি মিস, গাড়ি মিস তো সিটি ট্যুর মিস। তাই আটটার আগেই যেন হোটেল লবিতে থাকি। সর্তকতা আবারও দেরি করলে

মানে তোমার গাড়ি চলে যাবে কিন্তু তোমার টাকা ফেরৎ পাবেনা। মিঃ বুন একজন ভাল মটিভেটর, কি দারুন ভাবে কোম্পানীর পক্ষে কাজ করছে। নানা দেশের নানা ভাষার মানুষকে কত দক্ষভাবে ম্যানেজ করছে। কত রকম মানুষ আর কতরকম জীবিকা তাদের। সবচেয়ে ভাল লাগল তাদের কাজকে দেবতা মনে করে, সম্মান করে। গোধূলী বেলায় আমরা পাতং বিচে পৌঁছালাম (চলবে)

লেখকঃ মাহাতাব লিটন, প্রজেক্ট ম্যানেজার, WMPL