থাইল্যান্ড ভ্রমণঃ ১৮তম পর্ব

Thailand 18

মাহাতাব লিটনঃ সিটি ট্যুরের অংশ হিসেবে কাটা ভিউ পয়েন্টে ১৫ মিনিট বিরতি, গাড়ি পার্কিং এর পর আমাদের গাড়ির যাত্রীরা যে যার যার মত করে হাঁটতে শুরু করলেন। আমরাও তাদের ফলো করে এগিয়ে যাই। অসম্ভব সুন্দর এই পয়েন্টি, এইখানে দাঁড়িয়ে আপনি শহর, সাগর ও দ্বীপ গুলিকে দেখতে পারবেন থাই উপ সাগরের অনেকটা পশ্চিমের সাথে – উত্তর -দক্ষিণের অংশ।

হাতের ক্যামেরায় বা মোবাইল ফোনে যদি প্যানারোমা অপশন থাকে তবে তা সিলেক্ট করে তুলে ফেলুন এই বিরল দৃশ্য। কারণ আপনার তিন দিকে সাগরের নীল জলরাশি আর সবুজে আবৃত ছোট ছোট অসংখ্য অাইল্যান্ড। আমাদের গাইড মিস্ মুডির আবারও ওয়ার্নিং

– টাইম আউট, টাইম আউট করে সর্তক করছিল।

আরে বাবা একটু আধটুতো দেরি হতেই পারে। খুউব দ্রুত কি সময় চলে যাচ্ছে নাকি এই বেরসিক নারী সে আমাদের অযথাই পেইন দিচ্ছিল। এই রে বড় মেয়ে এসে বলল

– পাপা ওয়াশ রুম, মাম যাবে

– দেখো ওদিকটায়, আমি মন্দিরের দিকে দেখিয়ে বললাম। যদিও অনুমান ছিল। মা মেয়ে দুজনেই চলে গেল অামি ছবি তুল ছিলাম।

একটু পরে মন খারাপ করে দুজনেই ফিরছিল, বুঝলাম ওখানে ওয়াশ রুম বা টয়লেট নেই। এদিকে মুডি গাইডের তাড়া, আমি তাকে বললাম প্রবেলেমটা তিনি একটা দিকে হাত উঠিয়ে দেখিয়ে দিলেন। আমি বলার আগেই আমাদের তিন নারী ঐদিকটায় হাঁটতে শুরু করল। ছোটজন যেতে চাচ্ছিল না, অনেকটা জোর করে নিয়ে যাওয়া হল।

আমাদের পরিবার ছাড়া আর সবাই এসি গাড়ির ভেতরে বসে ছিল।  মুডি গাইড আরও বিরক্তি নিয়ে আমাদের অত্যচার হজম করছিল। আরে বাবা এখানে তো আমাদের হাত নেই।

কিছুক্ষণ পর ফিরে এলো তিন নারী, হাতে খুচরো পয়সা, মানে এখানেও টাকা দিতে হয়। ভালইতো যদি সার্ভিস পাওয়া যায়। ওদের দেশের তিন বাথ। আবার গাড়ি ছাড়ল, অনুমান করছিলাম গাড়ির ভেতরের যাত্রীরা মনে মনে একটু ক্ষেপেছে। না সেটা ভুল অনুমান ছিল সবার মুখ দেখে অন্ততঃ তাই মনে হল। আবারও গাড়ি ছুটল এবার মনে হল আমরা আরও উপরের দিকে যাচ্ছি। মিনিট বিশেক পর আমাদের গাড়ি এসে থামল বিগ বুদ্ধার মন্দিরে। নতুন করে এই মন্দিরটা স্থাপনের কাজ চলছে। তবে পাশেই পুরনো মন্দির থাকায় দর্শকদের পুজারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

গাড়ি থেকে নামার আগেই বিশ মিনিট, বিশ মিনিট বলে আমাদের কর্ণের গহীনে পৌঁছে দিলেন। আমরাও মিনিট বিশের মধ্যে ফিরব এই বলে মনে মনে পন করলাম। কিন্তু বিগ বুদ্ধার দীর্ঘ সিঁড়ি বেয়ে কি করে সম্ভব বিশ মিনিটে ম্যানাজ করব , আগেই বলেছিলাম মনে হচ্ছিল যেন আর্মি ট্রেনিং এ আছি সকলে। শ্বেত পাথরের এতো বড় বৌদ্ধ মুর্তি আমি আগে দেখিনি। শ্রী লংকায় ও নেপালে অনেক বৌদ্ধ মুর্তি দেখেছি কিন্তু এতো বড় নয়।

প্রচন্ড তাপদহ, ভেতরটা শুকিয়ে যাচ্ছে। মনে মনে ঠান্ডা পানীয় খেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু খাব না ঘুরে ঘুরে দেখব। ছবি তুলব এমনি ছবি তুলতে না পেরে মনটা আমার খারাপ। মন্দিরের চারপাশে সাজানো রয়েছে, আরও অসংখ্য বৌদ্ধ মুর্তিসহ আরো অনেক ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক নেতাদের মুর্তি। কোনটা পিতলের, কোনটা কাঠের বা কস্টি পাথরের।  পূজা অর্চনা চলছে। আরে আমাদের চারপাশে পরিচিত কেউ নেই, তাহলে আমাদের রেখেই গাড়ি চলে গেল নাকি।

আমরা ফেরার পথে মন্দিরের তৈরি কুলফি খেলাম ২৫ বাথ প্রতিটি। আগে তো পরাণ জুড়াক। তারপর দেখা যাবে গাড়ি কোথায়। খাচ্ছি হাঁটছি, আরে গাড়ি কই, না গাড়িটা পার্কিংর বাইরে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে। গাড়িতে দেখি সবাই আছে, না এরা মনে হয় পুরো এলাকাটা না দেখেই চলে এসেছে।  (চলবে)

লেখকঃ মাহাতাব লিটন, প্রজেক্ট ম্যানেজার, WMPL