থাইল্যান্ড ভ্রমণঃ ২য় পর্ব

2y kisti

মাহাতাব লিটনঃ সাইতাইমাই বাসটারমিনালের তো দেখি না যেদিকটায় নামিয়ে দিল সেটাততো মার্কেট মনে হচ্ছে। আর আমাদের পাইলটকে যেমনটা ভেবেছিলাম তেমন না। কারণ সামনের সীটে বসে মোবাইল ফোনে চার্জ দিয়ে ছিলাম। গাড়ি থেকে নেমে যখন বাসের খোঁজ করছি ঠিক তখন পেছেন থেকে ড্রাইভার ভদ্রলোক এসে মোবাইল ফোনটি আমার হাতে ধরিয়ে দিল। ফোনটি হাতে পেয়ে আবার লোকটিকে এক পলক দেখে নিলাম। কৃতজ্ঞতা জানালাম। সাথে একটা ভিজিটিং কার্ড ধরিয়ে দিয়ে বলল যাতে করে ব্যাংককে ফিরে এসে তাকে ফোন দেই।

ধন্যবাদ জানিয়ে আবার দুজনকে বাসের কথা জিজ্ঞেস করলাম ফুকেটের বাস কোথায় পাওয়া যাবে ? ভদ্রলোকটি একজন মেয়েকে দেখিয়ে দিয়ে বলল তুমি ওর সাথে কথা বল। মেয়েটির কাঁধে চামড়া ব্যাগ অনেকটা বাসের সুপারভাইজারের মত, বেশতো একটু শুনেই আমাকে বাসের কাছে নিয়ে যেতে থাকলেন। তার পেছনে পেছনে হাঁটতে থাকলাম। কেমন খরচ মানে টিকেটের দাম বোঝানোর চেস্টা করলাম মানে কেন বাসে যাচ্ছি ১৩/১৪ ঘন্টার পথ। সে হাঁটছে আর আমার উত্তর দিচ্চ্ছে সেও আমার মতই পরিবারের মানুষ। তাহলেতো হয়েই গেল এবার গিয়ে হাজির হলাম দুজন নারী ও পুরুষের সামনে। থাই ভাষাতে নিজেদের কথা বলে নিল টিকেটের টাকা কেটে রাখল তবে আমার দাবি ছিল ছোট মেয়েটির টিকেটের দাম যেন কিছুটা কম রাখে। তারা তাদের কথা রাখল চারটি টিকেট ২৫৭৭ বাথে হয়ে গেল। এসি ডাবল ডেকার বাস। টয়লেটেও আছে পথে রাতের খাবারও ফ্রি। দোতলায় সীট। একদম সামনে বেশ ঢাকার বিআরটিসির মত লাগছিল। কিন্তু তিনটি সীট সামনে একটা সীট পেছনে মানে দুই সারি পর।

সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে বাস ছাড়লেন। পাইলট সুপারভাইজার সব কি সুন্দর আমাদের দেশের কাস্টমের মত পোষাক। র্যাঙ্কও আছে। যাক বাস ছাড়তেই ছোটখাটো গড়নের সুপারভাইজার এসে পানি ও ফুলের মত টোস্ট দিয়ে গেল অনেকটা বড়দিনে ফুল পিঠার মত দেখতে। পিপি পলিথিনে রাখা সুন্দর টোস্ট বিস্কুটি বেঁধে রেখেছে খুউব যত্নে। গাড়ি চলতে শুরু করতেই আমরা একমাত্র যাত্রীবৃন্দ যাদের কথোপকথনে প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হতে থাকল পুরো বাসটা সেকি আর কারো শব্দটুকু নেই। পলিথিনে থাকা লালচাদর সবাই গায়ে দিয়ে ঘুমাতে শুরু করে দিয়েছে সেকি বাবা সবেতো মাত্র। আমার হাত ঘড়িতে তখন আটটা বাজে। ওহো বলা হয়নি আমাদের দেশের রাত আটটা মানে এদের নয়টা। তার মানে এরা আমাদের দেশের চেয়ে এক ঘন্টা এগিয়ে। এরা ডলার বাথেও আমাদের টাকার চাইতে এগিয়ে। আপনি ৮৪ টাকায় ১ ডলার কিনলেন আবার সেই ডলার থাইল্যান্ডে থাই বাথে ভাঙ্গালেন মাত্র ৩২ বাথ পেলেন তার মানে ৫২ টাকা গচ্চা। যাক কি আর করা আমার দশা হচ্ছে “আমি জেনে শুনে বিষ করেছিগো পান”। বাসস্ট্যান্ডেই কিছু চিপস্ ও বিস্কুট কিনেছিলেন তিনি আপদকালীন সংগ্রহ বলতে পারেন। আমাদের সহযাত্রীরা মানে  বেচারী যাত্রীরা কতইনা ক্লান্ত শ্রান্ত তাই নিদ্রারত।

স্রোতস্বিনী তো ননস্টপ বকবক করেই চলছে। কিন্তু রাত যতই বাড়ছে তাঁর মায়ের টেনশন ততই বাড়ছে মেয়েকে ভাত খাওয়াতে হবে। মনে পড়ে গেল বিমানে একটি লাঞ্চ অতিরিক্ত দিয়েছিল। ব্যাগ থেকে বের করে মেয়েকে খাওয়ানোর অভিযান শুরু করলেন। একটু পর পর বলতে থাকল কিছু একটা খাবার বা ফলটল নিলে ভাল হতো। বাসতো থামছেই না যাচচ্ছে আর যাচ্ছে আট লেনের রাস্তা।

কি আশ্চর্য এরা গাড়ির হর্ণ বাজায় না নাকি হর্ণ নেই। এটা হয় নাকি কি বড় বড় গাড়ি যাচ্ছে। যে যার যার মতো করে, বড় ট্রাক বা লড়িগুলি লুকিং গ্লাসে যখনই দেখছে যাত্রীবাহি বাস ঠিক তখনই সাইড দিচ্ছে।  এদের অতিভদ্রতা দেখে আমি মনে মনে হাসি। একবার যাওনা আমার দেশে গাড়ি চালাতে টেরপাবে ভদ্রতারে কারে কয়। কিন্তু রাতের খাবারের ব্রেকতো আর দেয় না, হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গে,  -নামও নামও হোটেল।

ঘুম উঠে থেকে দ্রুত নামলাম। টাইম কিন্তু ২০ মিনিট। তা বিশাল রেস্টুরেন্ট। আমাদের প্যাসেঞ্জারদের ডেকে হোটেলে বসাচ্ছে তা আমরা একটা পৃথক টেবিলে কিন্তু তারা আবার ডেকে নিয়ে অন্য এক টেবিলে বসল। খাবার নিতে গিয়ে বুঝলাম চিকেনের পাশের খাদ্যটি আমাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। দ্রুত টেবিল পরিবর্তন করা হলো। এবার হালাল টেবিলে। কি অসম্ভব সুন্দর পরিপাটি দেশটা। (চলবে)

লেখকঃ মাহাতাব লিটন, প্রজেক্ট ম্যানেজার, WMPL