থাইল্যান্ড ভ্রমণঃ ২১তম পর্ব

Thailand 21

আসিতেছে..

মাহাতাব লিটনঃ আমাদের ট্যুরিস্ট গাইড স্বল্প আলাপীকে খুঁজে না পেয়ে আমি একটু হতাশ হলাম। সে যাই হোক এত্তো বড় বিতানে আমরা ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত প্রায়। আর সেই যে ট্যুর প্যাকেজের কফি সেতো পেলাম না। কি হবে ? না তা নয় কখন হবে?

জেমসের বিশাল প্রদর্শনী রুমে লেদারের সংগ্রহ আছে এক একটির দাম আকাশচুম্বি।হবেই তো এখানে দেখা যাবে ধরা যাবে কিন্তু ক্রয় করা যাবে না। মনে মনে এই বলিয়া শান্তনা দেই আসিয়াছি ঘুরিতে ফিরিতে, নহে পণ্য ক্রয় করিতে হা হা হা। কত কথা অযথা যার বলার কথা সেই কিছুই বলছে না, মাঝে মাঝে আমাকে দেখাচ্ছে

– এই দ্যাখো দ্যাখো

– কি নিবে নাকি নাও

– না থাক অনেক দাম

– হুমম ( মনে মনে বলি আমিও তা চাই যাতে এতো দামি জিনিস না কিনি ভাই)।

আমাদের টিমের কেউ কিছুই কেনাকাটা করেনি। শ্বেতাঙ্গ নর-নারী যেখানে খুউব খেয়াল “ক্রয় নিষেধ” ব্রত মেনে চলছে আর আমরা কোথাকার রাজ ধীরাজ।

মিনিট পাঁচেক পর বুঝতে পারি আমরা বাহির হবার কাছাকাছি। এক্সিটের পথে আছে ফার্স্ট ফুডের দোকান। আমাদের বসতে বলা হল। এরপর বলা হল এবার কাউন্টারে যাও টোকেনটা দাও বিনিময়ে কফি অথবা সফট্ ড্রিংক্স পান কর।

কন্যাদ্বয় পিতাকে অনুসরণ করে ঠান্ডা পানীয় নিলেন আমাদের একমাত্র পরিবার প্রধান কফিতে সন্তুষ্ট থাকিলেন। জেমসের শো রুম থেকে বের হয়ে দেখি আমাদের মাইক্রোবাসের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ট্যুরিস্ট গাইড আবার সেই থাই নারীর তাগদা কাম কাম প্লিজ প্লিজ।

আরে বাইরে এসে একটা ছবি তুলব তার কোন উপায় নাই ভয় পাই আবারও বিলম্বে সহযাত্রীর না চক্ষুশূল হই। ফুকেটের পথ ধরে মিনিট দশেক পর আমাদের গাড়িটি এসে দাঁড়াল বিশাল কাজু বাদাম ফ্যাক্টরীর সামনে। গাইড আবারও মনে করিয়ে দিল। টাইম কিন্তু কুড়ি মিনিট।

গাড়ি থেকে নেমে একটু সামনে এগিয়ে দেখলাম জনা পাঁচ নারী কাজু বাদামের খোসা অালাদা করছে একটা হাত মেশিনের সাহায্যে। কত যত্নসহকারে মনযোগ দিয়ে কাজ করছে সবাই। একজন নারী সুপারভাইজার তদারকি করছেন।

পাশেই তাকে তাকে সাজানো কাজু বাদাম নানা স্বাদের নানা প্যাকেটজাত। কি রকম স্বাদ চাই ভাই – আহা মধু মাখা কাজু, ঝাল কাজু, তিল কাজু, ঝাল মিস্টি কাজু, টক মিস্টি কাজু আরও নানা স্বাদে। নানা স্বাদের কাজু আপনি কিন্তু টেস্ট করতে পারবেন। আর আমি নিজ দায়িত্বে কম করে দশটির স্বাদ গ্রহন করি যখন খেতে না পারি একমুঠো আপদকালীন সময়ের জন্য সংগ্রহ করি। কাজু বাদামের সাথে সাথে রয়েছে শতাধিক ফলের আচার তবে তেলের না শুকনো। এখানেও রয়েছে ফ্রি স্বাদের সমারোহ।

চিনি মধু ঝাল টকসহ নানা স্বাদের নানা ফল। উন্নয়নশীল দেশ সমগ্র পৃথিবীতে ইলেকট্রনিক্স ক্যামেরা, টিভি, গাড়ি, ফল, প্রসাধনী, জেমস রপ্তানী করে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে আমরা হাল্কা সদাই করে কাজু বাদামের গাছে সামনে ছবি তুলি। ফটোগ্রাফার সেই ট্যুরিস্ট গাইড। তিনি এবার হাসি মুখে বিনয়ের সাথে ছবি তুলে দিলেন। হাল্কা পাতলা বৃষ্টি এলো কিছুক্ষণ পর চলেও গেল।  আমরা আবার গাড়িতে উঠলাম। এবার গন্তব্য মধু কারখানা (চলবে)

লেখকঃ মাহাতাব লিটন, প্রজেক্ট ম্যানেজার, WMPL