থাইল্যান্ড ভ্রমণঃ ৪র্থ পর্ব

45

মাহাতাব লিটনঃ শুভ সকাল ফুকেট, ফুকেটের পাহাড়গুলি দেখতে আমাদের দেশের সিলেট বা বান্দরবান পাহাড়ের মতই, তবে মাটির চেয়ে বড় বড় পাথরের পাহাড়ই বেশি। না এতো ভাল ভাল না কারণ গাড়ির যদি হর্ণই না বাজাবে তবে কিসের গাড়ি চালানো।

দ্রুত গতিতে মটরবাইকগুলি সাই সাই করে চলে যাচ্ছে হ্যাঁ মটরবাইকের শব্দটা একটু বেশি সেটাও তরুণদের সৌজন্যে। ফুকেট সারি সারি শত শত মটরবাইক পার্কিং করা, একদম সাজানো গোছানো শৃঙ্খলাবদ্ধ।

আমাদের পরিবার প্রধান (স্ত্রী) সহজেই কোন স্থান বা কারো প্রশংসা সহসা করেন না। অতিরিক্ত কথা বলাও পচ্ছন্দ করেন না। আমি ঠিক তার উল্টো, একবার তিনি রাজশাহীতে বেড়াতে গিয়ে শহরটা দেখে প্রশংসা করেছিলেন  “কি সুন্দর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন শহর সবুজের সমারোহ ” এবার ফুকেটে এসেও তিনি প্রশংসা করলেন। আমাদের দেশের মতই গড় তাপমাত্রা কিন্তু এদের এখানে একই তাপমাত্রায় শরীর পুড়ে যায় ঘাম হয়না।

৩০ মিনিটে ২৫ কিঃমিঃ ৫০০ বাথ গুনতে হল। মিঃ বুন আমাদের পাতঙ্গ সি বিচের একদম কাছেই একটা হোটেলে নামিয়ে দিলেন। বললেন তাঁর বন্ধু এখানের ম্যানেজার, ” তুমি দেখো এখানে তোমার রুম পচ্ছন্দ হয় কিনা।

গাড়ি থেকে লাগেজ নামিয়ে রেখে ঘুরে ঘুরে তিনটি হোটেল দেখলাম না পচ্ছন্দ হলো না। পাশেই ছিল তারকা হোটেলে সাহস করে গেলাম, শুনলাম প্রতি রাত ১টা রুমের রেন্ট কতো। মাত্র ৬০০০ বাথ মানে আমার টাকায় ১৮০০০/- দ্রুত প্রস্থানই শ্রেয় তবু রিসোর্চকে ব্যবহার করা পরামর্শ চাইলাম এর চেয়ে – একটু চিপ, তিনি মৃদু হাসলেন কাউন্টার থেকে বাইরে এসে একটি হোটেল দেখিয়ে দিলেন বললেন তুমি ওখানে ট্রাই করতে পারো। বড় কন্যা লাগেজ পাহারায়, ছোট কন্যা সহ আমরা তিনজনা হোটেল বুমেরাং এর কাউন্টারে কিন্তু সেখানে কেউ নাই, এরপর মাঝবয়সী এক ভদ্রমহিলা এগিয়ে এলেন, কিছু বলার আগেই বুঝতে পারলেন তাই উত্তর দিলেন No room no room, সকাল ৭:৩০ মিনিট পেটে ক্ষুধা, ফ্রেস হওয়াটা জরুরী সবার অাগে হোটেলটা জরুরী, এবার ঠিক তার সামনে চাইনীজ ডিজাইনে একটি হোটেল নাম মিনাটেল (Minatele), বেশ পরিপাটি কিন্তু এখানেও যে কাউন্টার ফাঁকা কেউ নেই। ডাক দিলাম কেউ আছে নাকি। নারী হোটেল ম্যানেজার ভেতর থেকে কাউন্টারে এলেন, আমাদের চাহিদা ও পচ্ছন্দ মত। রুমও পেলাম। লিফটের ৩০২ নাম্বার রুমটি। ডাবল বেড, এসি, ফ্রিজ, টিভিসহ বেলকুনি সকল সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন।

আবার সেই তারকা হোটেল নাকি নাহ বাবা এই। হোটেলটি এখনো তারকা হয়নি। প্রতি রাত ১০০০/- চেক ইন দুপুর ২টায় চেক আউট ১২টায়। নারীর কমল মনে আমাদের জন্য দয়া হল তাই সকাল বেলাই চেক ইন হল। পাসপোর্টের ফটোকপি অন্যান্য অানুষ্ঠানিকতা শেষ করলাম সমস্যা হল সিকিউরিটি মানি ওরা নেয় এটা রিফান্ড্যাবল। কিন্তু আমার কাছেতো বাথ নেই ডলার চেঞ্জ করতে হবে।

বুঝিয়ে সুঝিয়ে হোটেল কক্ষে ঢুকলাম। ২৬ ঘন্টার পর শয্যার স্বাদ গ্রহন। সবাই সুবোধ বালক বালিকা মত ঠিক সময়ে গোসল টোসল সেরে সকালের খাবারের অনুসন্ধানে। (চলবে)

লেখকঃ মাহাতাব লিটন, প্রজেক্ট ম্যানেজার, WMPL