থাইল্যান্ড ভ্রমণঃ ৮ম পর্ব

Thailan 8

মাহাতাব লিটনঃ কি সাংঘাতিক নিজ চোখে না দেখলে কি করে বিশ্বাস করব, বাংলা রোডে কোন গাড়ি ঘোড়া মটরসাইকেল বা টুকটুক ঢুকতে পারে না। রঙ্গীন মানুষদের মেলা, নানা দেশের হরেক রকম পোষাকে সবাই কি এক অফুরান আনন্দের প্লাবনে ভাসছে, চোখে মুখে তাই বলছে। এ যেন ক্লান্তি-হতাশা, কস্ট-বেদনা মুক্ত এক পরিবেশ।

কেউ বা সন্ধ্যায় সাগর স্নান শেষে প্রিয়জনের হাত ধরে ফিরছে হোটেলে, কেউ বন্ধুদের নিয়ে বারে বসে গান শুনছে, কেউ রঙ্গীন আলোতে রঙ্গীন পানি পানরত। আবার কেউ থাই বক্সিং দেখার অপেক্ষায়। কেউ আবার ললনাদের পরশের আশায় শরীরের সকল কৃত্রিম ব্যাথা নিয়ে হাজির।

বারের সংখ্যা বেশি নাকি, ম্যাসেজ পার্লারের সংখ্যা বেশি। দেখে যা মনে হল পার্লারের সংখ্যাই বেশি। একই ডিজাইনের পোষাকে সেজে গুজে ম্যাসেজ পার্লারের সামনে বসে আছে সব খদ্দরের আশায়। মনে হল এ সময়টা ওদের জন্য অফ সিজন।  আমরা কিন্তু হাঁটছিলাম এই ফাঁকে দৃষ্টিগোচর সবই আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। যতই হাঁটি না কেন আমাদের চোখ কিন্তু সেই দুটো ভাত, মানে হালাল হোটেল পেলে চিকেন, সবজী, সাদা ভাত ও ফ্রাইড রাইস পাওয়া যাবে।

এক বিশ একুশের তরুন এসে বলল

-হালাল হোটেল,

-ইয়েস

– আসসালামুআলাইকুম

– অলাইকুম আসসালাম,

এবার তাকে অনুসরন করতে বলল, মুল সড়ক থেকে একটু ভেতরে।

দুটো ভাতের জন্য অচেনা তরুনের পিছু নিলাম। কিছুদূর যেতেই রেঁস্তোরাটি খুঁজে পেলাম।

সেকি!!!

-ব্রাদার এটাও তো একটি বার।

বেচারার অসহায় উত্তর,

– কি করবো স্যার আমরা বেচি না, ওরা নিয়ে আসে বসে বসে গিলে, সাথে আমাদের কিছু আয়টেম খায়।

কাল বিলম্ব না করে স্বপরিবারে প্রস্থান। সবচেয়ে অখুশি তিনি কারণ স্রোতস্বিনীর রাতের খাবার এখনো ম্যানেজ হয়নি।

সি-বিচের লিংক রোড ধরে একটু সামনে এলে একটি হালাল রেঁস্তোরা, আসলে এটি একটি ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট।

খাবারের ম্যানু হাতে এগিয়ে নেপালী বংশের মায়ানমারের জন্ম নেয়া প্রবাসী এক তরুন, হালকা পাতলা গড়নের, তার হোটেলের প্রশংসা করলেন। বললেন মালিক মুসলিম, কাশ্মিরী, সে অনেকদিন ব্যবসা করেন।  কাঠমুন্ডুর থামিলে বেশকটি মুসলিম হোটেল পেয়েছিলাম সেটাও কাশ্মিরীরা চালায়। বেশ জমজমাট ব্যবসা।

সে কথা থাক আমরা চারজন মিলে ৪০০ বাথে রাতের খাবার শেষ করলাম। আগামি কাল জেমস্ বন্ড আইল্যান্ড যাত্রা (চলবে)

লেখকঃ মাহাতাব লিটন, প্রজেক্ট ম্যানেজার, WMPL