ইতালী-যাত্রীর ডায়েরী – পর্ব ২

iiittt

“আইতে খাল, যাইতে খাল
তা’র নাম বরিশাল।”
সেই বরিশালকে টেক্কা দিতে পারে সহজেই ইতালীর ভেনিস! বাংলাদেশ যদি নদীমাতৃক দেশ হয়, তবে খালমাতৃক শহর অবশ্যই এই ভেনিস। বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস-এর গাড়ীতে চেপে ১০ মিনিট দূরে ঘাট, আর সেখান থেকে ওয়াটার-ট্যাক্সীতে চড়ে হোটেল। ভেনিসে পথঘাটের বদলে খাল। রন্ধ্রে রন্ধ্রে খাল। অন্য শহরে লোকে যেমন গাড়ীতে বা বাসে করে গন্তব্যে যায়, এখানে যায় নানান জলবাহনে। ওয়াটার-ট্যাক্সী ছাড়াও আছে ওয়াটার-বাস আর ফেরী। পুরোনো দিনের ঐতিহ্য ধরে রেখে প্রেমিক-প্রেমিকার রোমান্সের জন্য রয়েছে এক লম্বা সরু নৌকা – গণ্ডোলা।

পর্যটকদের কাছে এই গণ্ডোলায় চড়াটা অতীব আকর্ষনীয়। ভেনিসের প্রতীক এই গণ্ডোলার কথা শুনে আসছি সেই ছোটবেলা থেকে; ষাটের দশকে বাবা-মার ভেনিস ভ্রমণের পর এই গণ্ডোলার একটা মডেল স্মারক হিসেবে আমাদের বাসায় ছিল অনেকদিন। আজ এই প্রথম নিজ চোখে দেখলাম বিখ্যাত সেই নৌকা।

হোটেলের নিজস্ব জেটি থেকে প্রতি বিশ মিনিট অন্তর শাটল ট্যাক্সী ছাড়ে সেন্ট মার্ক্স স্কোয়ারের উদ্দেশ্যে। মুখহাত ধুয়ে গরম জামাকাপড় পরে বেড়িয়ে পড়লাম শহর দেখতে। ইউরোপের প্রায় প্রতি বড় শহরের কেন্দ্রে একটা চক বা স্কোয়ার থাকে, যেখানে সাধারণতঃ পরপর রেস্তোঁরা, দোকানপাট ইত্যাদি থাকে। শহরবাসী ও পর্যটকরা এই চকে ঘুড়তে আসে। কোন না কোন অনুষ্ঠান প্রায়ই চলতে থাকে এখানে। ভেনিসের সেন্ট মার্ক্স স্কোয়ার শহরের মিলনস্থল। শীতকাল বলে পর্যটকের সংখ্যা এখন কম। চকের পাশে চারিধারে অসংখ্য গলি। আর এ গলিগুলোতে নানান বাহারের দোকান।

ইতালী হাল-ফ্যাশানের অন্যতম উৎসস্থল। ভেনিসের দোকানগুলো কিছুক্ষণ ঘুরে দেখলেই বোঝা যায় কতটা কেতাদুরস্ত এ শহরের মানুষ। কাঁচের বাহারী নকশা করা শৈল্পিক জিনিসপত্র, চামড়ার ব্যাগ আর জুতো, পুরুষদের স্কার্ফ আর মহিলাদের সুরুচিসম্মত আধুনিক পোষাকে ভরপুর এ শহর। ঘুরতে ঘুরতে লেগে গেল খিদে। ঠিক করলাম, ইতালীতে এসে সবার প্রথমে খেতে হবে পিৎজা। ঢুকে পড়লাম এক পিৎজেরিয়ায়। ফ্রুটি ডি মার (সীফুড পিৎজা) দিয়ে সান্ধ্যভোজন সেরে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে ওয়াটার-ট্যাক্সী চড়ে ফের হোটেল। ঢাকার হিসেবে এখন রাত তিনটা। নরম বিছানাটা ডাকছে আমায়। যারা বলে নিজের বিছানা ছাড়া ভাল ঘুম হয় না, তা’রা হিল্টন হোটেলের বিছানায় শোননি। …বুয়োনা নটে! (চলবে)

লেখকঃ সৈয়দ আলমাস কবীর, প্রেসিডেন্ট, বেসিস।