উত্তরা ইপিজেটের বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে পর্যটন পরিবেশ

1550150065

মোঃ জয়নাল আবেদীন (নীলফামারী): আবাসিক এলাকায় ও রাস্তার ধারে চামড়ার বজ্য ডাম্পিং করায় দুগন্ধে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে বর্জ্যের ডাম্পিংয়ের স্তুপ দেখা যায়। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উত্তরা ইপিজেটে গরু, মহিষ ও ছাগলের চামড়া দিয়ে তৈরি হচ্ছে ব্যাগ, মানিব্যাগ, বেল্ডসহ বিভিন্ন পণ্য।

এসব পণ্য তৈরি করার সময় চামড়ার কাটিং (ওয়েস্টেজ) বের হয়। এগুলো নিদিষ্ট ফাঁকা স্থানে পুড়িয়ে ফেলা এবং গর্তে রাখার নিয়ম রয়েছে। কারণ ব্যাগ তৈরি করার সময় চামড়ায় এক প্রকার বিষাক্ত পদার্থ দেওয়া হয়। যা মানবদেহের জন্য অনেক ক্ষতিকর। তাছাড়া এগুলো কৃষি জমিতে পড়লে সহজে গলে ও পচে না। যা কৃষি জমির জন্য ক্ষতিকর। এ কারণে ফসলের ফলন কমে যায়। এর গন্ধ মানুষের শরীরে গেলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার শতভাগ আশংকা রয়েছে। 

উত্তরা ইপিজেটের এই বর্জ্যগুলো নিদিষ্ট ফাঁকা স্থানে না পুড়িয়ে ঢাকাইয়া মাহবুব নামের এক ব্যবসায়ী ট্রাক যোগে এনে গোডাউনে বাছাই করে কাটিং চামড়াগুলো চড়া দামে বাজারে বিক্রি করছে। আর সেখান থেকে অবশিষ্ট কাটিংগুলো রাতের আধারে ট্রাক যোগে আবাসিক এলাকায় ও গ্রামের রাস্তায় ফেলছে। যা অনেকের কৃষি জমিতেও পড়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে মাহবুব দেদারছে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এক সময় বর্জ্যগুলো নীলফামারীর বিভিন্ন রাস্তায় ডাম্পিং করা হলেও এখন স্থান পরিবর্তন করে পার্বতীপুর বাইপাস সড়কে ও গ্রামের রাস্তায় ফেলা হচ্ছে। ফলে ওই এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে পড়েছে। অথচ যেখানে এগুলো ফেলানো হয়েছে ওই রাস্তা দিয়ে দিনে রাতে হাজার হাজার লোকসহ শিক্ষার্থীদের যাতায়াত। গ্রামের রাস্তাগুলো দিয়ে শতশত লোক চলাফেরা করে। এসবের দুর্গন্ধে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। 

ওই এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক, সাজেদুল, করিম, তানজিলুর, মশিয়ার ও শিক্ষার্থী শিলা, বেলী, সুমন, জাবেদুল জানান, বর্জ্যগুলো রাতে ফেলানো হয়েছে। কারা ফেলছে জানা যায়নি। তবে পরে খবর নিয়ে জানতে পারি ঢাকাইয়া ব্যবসায়ী মাহবুব এগুলো ফেলেছে। এগুলো ফেলার কারণে আমরা দুর্গন্ধে চলাফেলা করতে পারছি না। ফলে তাদের শরীরে এ বিষাক্ত গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। তারা বিভিন্ন রোগে ভুগছে। অনেকে বিভিন্ন রোগে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। 

তারা আরো জানান, গ্রামের রাস্তায় ফেলানো বর্জ্যগুলোয় আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দেওয়ার পর গন্ধের তাপমাত্রা আরো বেড়ে যায়। এগুলো ফেলতে নিষেধ করলেও কোন বাধাই মানছেন না ওই ব্যবসায়ী। তারা ইচ্ছামত এ বর্জ্যগুলো ফেলছেন। আমরা এ থেকে পরিত্রাণ চাই। 

তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ হবে উন্নয়নশীল দেশ আর গ্রাম হবে শহর। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা শহর গড়তে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। মন্ত্রীরা নিজে ঝাড়ু দিয়ে শহর পরিচ্ছনতা কাজের উদ্বোধন করছেন। সেখানে ওই ব্যবসায়ী মাহবুব প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের ঘোষণা বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে চামড়ার বর্জ্য আবাসিক ও গ্রামের রাস্তায় ফেলে পরিবেশ দুষণ করছেন। তার এসব কর্ম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। না হলে শহর ও গ্রামের পরিবেশ দুষণ হয়ে বিপর্যয়ের দিকে যাবে। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী মাহবুবের সাথে সাক্ষাত না হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

এ ব্যাপারে কথা হয় উত্তরা ইপিজেটের ভ্যানচুড়া কোম্পানির কর্মকর্তা বিটনের সাথে। তিনি বলেন, সাপ্লাইয়ারদের মাধ্যমে বর্জ্যগুলো দেয়া হয়। তারা এগুলো থেকে বাছাই করে কাটিং চামড়াগুলো বিক্রি করে। অবশিষ্ট বজ্যগুলো গর্তে ফেলানোর কথা। তারা কিভাবে ফেলছে আমার জানা নেই। যেহেতু অভিযোগ এসেছে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে।