নারী শিক্ষায় অনন্য প্রতিষ্ঠান গুয়াবাড়িয়া এ,বি বালিকা বিদ্যালয়

নিয়ামুর রশিদ শিহাব, গলাচিপা(পটুয়াখালী,সংবাদদাতা ) : বাংলাদেশের নারীরা দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে। এই নারী শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখছে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া এ,বি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার ৪৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬টি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গুয়াবাড়িয়া বাজারে অবস্থিত গুয়াবড়িয়া এ,বি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় অন্যতম। ১৯৯৪ সালে স্থানীয় সমাজসেবক, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ ইউসুফ মোল্লা নিজস্ব উদ্দোগ্যে ১৬জন ব্যক্তির দান করা ১৫০শতাংশ জমির উপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লাভ পায়। ১৯৯৯সাল থেকে অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে আসছে।

বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ১২জন শিক্ষক ও ৪জন শিক্ষিকা এবং ৭জন কর্মচারী রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে ৩০৫জন ছাত্রী অধ্যয়নরত। এর ৫টি শ্রেনি কক্ষ রয়েছে যা শিক্ষা ব্যবস্থায় যথেষ্ট না। রয়েছে প্রধান শিক্ষক, সহ প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক মিলনায়তন সহ মোট তিনটি কক্ষ। এছাড়া ১টি কম্পিউটার ল্যাব, ১টি জেনারেটর কক্ষ, ১টি পাঠাগার ও ১টি অডিটরিয়াম রয়েছে। ১২টি টয়লেট আছে। ছাত্রীদের পানি পানের জন্য আছে গভীর নলকূপ। বরিশাল শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ছাত্রীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ফলাফলে ভালো অবস্থানে রয়েছে।

জেএসসি পরীক্ষায় ২০১৫সালে ৩৯জন ছাত্রী অংশ নিলে সকলে উত্তীর্ণ হয় এবং ৫জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।২০১৬সালে ৩৯জন ছাত্রী অংশ নিলে সকলে উত্তীর্ণ হয় এবং ১জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ২০১৭সালে ৫০জন ছাত্রী অংশ নিলে পাসের হার ১০০% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১জন। সর্বশেষ ২০১৮সালে ৪৫জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ৪১জন এবং পাসের হার ৯১.১১%। এসএসসি পরীক্ষায় ২০১৬সালে ৩৯জন ছাত্রী অংশ নিলে সকলে উত্তীর্ণ হয়, ২০১৭সালে ২৯জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ২৬জন।২০১৮সালে ৩৯জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ৩৬জন এবং ২০১৯সালের পরীক্ষায় ৩৯জন ছাত্রী অংশ নিয়েছে।গুয়াবাড়িয়া এবি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় গলাচিপা উপজেলার মধ্যে সর্বপ্রথম সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান।

বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল ক্লাশ নেয়ার ব্যবস্থা। বিদ্যালয় সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ সরবারহের পাশাপাশি রয়েছে সোলার প্যানেল সাহায্যে বিদুৎ ব্যবস্থা। বিদ্যালয় রয়েছে স্থায়ী শহীদ মিনার এবং মিলনায়তন। যেখানে বছরব্যাপরী বিভিন্ন দিবস পালিত হয়। এছাড়া বালিকা বিদ্যালয়টি সহকার্যক্রম পরিচালনা করে। বাৎষরিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বনভোজন, গ্রীষ্ম ও শীত কালীন প্রতিযোগিতা সহ নানা অনুষ্ঠার আয়োজন করে। বিদ্যালয়টি অনন্য প্রতিষ্ঠান হলেও রয়েছে কিছু সমস্যা। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরী শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রক্রিয়াধীন কারিগরী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে নতুন একটি একাডেমিক ভবন নির্মান করা প্রয়োজন রয়েছে।

এছাড়া ছাত্রীদের সার্বক্ষনিক নিরাপত্তার জন্য বাউন্ডারি দেয়াল নেই যা নির্মান করা একান্ত জরুরি। বিদ্যালয়ে উচু নিচু মাঠ রয়েছে যা খেলাধুলার জন্য উপযোগী নয়। তাই অচিরেই মাঠ ভরাট করা দরকার। এখানে বিজ্ঞানাগারের ব্যবস্থা থাকলেও সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। সরঞ্জামের অভাবে বিজ্ঞান বিষয়ে ব্যবহারিক বিষয়ে পরীক্ষা নিরিক্ষা চালানো যাচ্ছেনা। এছাড়া আরও নানা ধরনের সমস্যা খুব দ্রুত  সমাধানে জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানিয়েছে ছাত্রীরা।এ ব্যাপারে গুয়াবাড়িয়া এবি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোশাররফ হোসেন জানান, নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দূর দূরান্ত হতে ছাত্রীরা আসে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষা গ্রহনের জন্য। বিদ্যালয় চারদিকে প্রাচীর না থাকায় ছাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। এছাড়া শ্রেণি কক্ষ সংকট ও বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। তাই বিভিন্ন সমস্যা খুব দ্রুত  সমাধানের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।