অপরুপ গাছকাটাছড়া ঝর্ণায় একদিন

অসীমচাকমা, রাঙ্গামাটিপ্রতিনিধি : বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। বিভিন্ন ঋতুতে আমাদেরদেশ টা বিভিন্ন রুপ ধারণ করে। তাই আমাদেরদেশ টা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা একটি সুখীদেশ।দেশেরবিভিন্ন প্রান্তে মনজুরানো ঐতিহাসিক ও নানা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা জায়গা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।তবেদেশের কিছু কিছু চোখজুড়ানো জায়গা রয়েছে যা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও প্রচারের অভাবে সবার অগোচরে থেকেযায়।তেমনি একটি অখ্যাতজায়গা রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার গাছকাটাছড়া ঝর্ণা। সিলেটের মাধবকুন্ড আমাদেরকাছে পরিচিত ও রোমাঞ্চকর একটিজায় গারনাম। যা আমরা ছোটবেলায় বইয়ে পড়েছি।এবং আমিনিজেও ২০১৪ সালে এরসৌন্দর্য অবলোকনকরে এসেছি।

তাই আমি অনুমান করে দেখেছি সিলেটের মাধবকুণ্ডে রচাইতে বিলাইছড়ির গাছকাটাছড়াঝর্ণা কোন অংশে কমনয়।শুধুমাত্র দূর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিনতার কারণে এটির কথা সবার অজানা। যদিও ফেসবুক ও মিডিয়ার কল্যাণে বর্তমানে ঢাকা থেকে শুরুকরে দেশেরবিভিন্ন প্রান্তথেকে বিশেষকরে বর্ষার সিজনেরসময় কিছু কিছু পর্যটকের পদচারণায় আস্তেআস্তে সবারমাঝে গাছকাটা ছড়ারবন্দনা ধ্বনিত হচ্ছে।এখন উপজেলার বাসিন্দারাও ছুটিরদিনে অবসর সময় তাসুন্দর ভাবে উপভোগ করার জন্য উপজেলার বিভিন্ন ঝর্ণারমত গাছকাটাছড়ারঝর্ণায় ও ছোটখাটো বনভোজনের জন্য যায়।

তাই আমি আমার ফ্যামিলি ও বন্ধুবান্ধব মিলে প্রায় ১২ জনের একটিদল গত ১০আগস্ট, ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে বনভোজনে গিয়েছিলাম। যদিও উক্তঝর্ণায় এটি আমার তৃতীয় বার যাওয়া।আরেকটাকথা ঝর্ণা দর্শন পাওয়ার আগে ঐখানে একটি চমৎকার , সুন্দর ও খোলামেলা জায়গা রয়েছে। চারিদিকে প্রাকৃতিক গাছপালা ও লতাপাতা বেষ্টিত এবং বসার জায়গাটা পাথরধারা আবৃত খোলামেলা ও আরামে বসে থাকার একটি জায়গা।যা আমরা চাকমা ভাষায় ছাদারা বলেথাকি।এবং জায়গাটা সামান্য ঢালু হওয়ায় সেখানে ছোটবেলার মতচড়ে উপর থেকে একদম নদীতে গিয়ে পড়ারমত চড়াযায়।তবে এখানে পার্থক্য হচ্ছে উপর থেকে ছড়ার পানিতে গিয়েপড়তে হয়।যা দেখলে শৈশবের সেই দূরন্ত দশ্যিপনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

ঐ দিন সকালে আমরা ছাদবিহীন ইঞ্জিন চালিত ছোট একটা বোটদিয়ে গাছকাটা ছড়াগ্রামের নিচে ধানের জমি পর্যন্ত যেতে পারলাম। কারণ পানি প্রায় শুকিয়ে গিয়েছিল।তাই ফুল বর্ষায় গেলে বোটদিয়ে আরও উপরে যাওয়া যায়। পরে ওখানে নেমে হাঁটা শুরু করলাম।প্রায় এক ঘন্টার মত পাহাড়ী ও ছড়ার মাঝখান দিয়েহাঁটতে হাঁটতে আমরা সেই ছাদারাতে গিয়ে পৌঁছালাম। ওখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সবাই যেযারমত ছবি তোলায় ব্যস্ত এবং পরে সবাই একে একেছোট বেলার মত ছাদারায় চড়ে দেখলাম। যাইহোক ঐখানে ঘন্টাখানেক শক্তি ক্ষয় করে রান্না করে নিয়ে যাওয়া ভাত তরকারি কলাপাতায় করে একসাথে মজাকরে খাওয়ার পর্বটা শেষ করলাম।

এরপর বিশমি নিটেরমত আরামকরে সেই কাঙ্খিত বড়ঝর্ণার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম।প্রথমে পাহাড় বেয়ে উঠা তারপর ছড়ার উপরদিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আনুমানিক আধঘন্টার মধ্যে গাছকাটা ছড়াঝর্ণায় পৌঁছেগেলাম।সবাই ঝর্ণায় গোসল করেনিয়ে এরপর খনিলাম ।ঐদিন আমরা বাদেও আরও দুইটি গ্রুপ ঝর্ণা দর্শনে গিয়েছিল।এবং আমরা ফটোসেশন সহ প্রায় ঘন্টাখানেক সময় কাটানোর পর শেষবেলায় বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। প্রায় সন্ধ্যার সময় বাড়ি পৌঁছালাম।এবং তখনো হয়তো সবার হৃদয়ে সেখানে কাটানো প্রত্যেকটা মুহুর্তের স্মৃতি মনে পড়তে লাগল।যাইহোক সেইদিন আমরা খুবই মজা করেছি।

তবে একটা বিষয় খারাপ লেগেছে তাহলো ঝর্ণায় যাওয়ার সময় ছড়ায় এবং ছাদারার এখানে পাস্টিকের খালিবোটল ও বিভিন্ন চিপস এবং চানাচুরের খালি প্যাকেট ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখলাম। যা পরিবেশের এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকরনয়। এভাবে করে যারাযাবে তারা যদি পরিবেশ বিনষ্টকরে তাহলে হয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যারা আসবে তারা আর এই ঝর্ণার অস্তিত্ব দেখতে পারবে না। তাই যারা ঝর্ণার দর্শনার্থী আসবে তাদের প্রতি অনুরোধ আপনারা একটু পরিবেশ রক্ষার প্রতি সচেতন হবেন। প্রয়োজনে প্লাস্টিকের বিভিন্ন প্যাকেট যত্রতত্র নাফেলে একটি নিরাপদ জায়গায় পুড়িয়ে ফেলুন। স্থানীয়রা জানান, ঝর্ণার আশেপাশে প্রায় চার/পাঁচ একরের মত জায়গা ভিলেজ কমন ফরেস্ট (ভিসিএফ) বা মৌজাবন এরিয়া হিসেবে রাখা হয়েছে। যেখান থেকেবাঁশ এবং গাছ থেকে শুরুকরে কোনকিছু কাটা যায়না।যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ।

যারা ঢাকা সহ দেশেরবিভিন্ন এলাকা থেকে আসবে তাদের জন্য বলবো, আপনারা যদি দিনে এসে দিনে ফিরতেচান তাহলে সরাসরি কাপ্তাই জেটি ঘাটে অথবা রাঙ্গামাটি দিয়ে আসলে তবলছড়ি ঘাটে এসে ওখান থেকে ইঞ্জিন চালিত একটি বোট পুরোদিনের জন্য কন্ট্রাক করে নিয়ে এসে আবার ফিরতে পারবেন। তবে আসারসময় সবার ন্যাশনাল আইডি কার্ড/জন্ম নিবন্ধন এবং ফটোকপি এককপি সহ নিয়েআসবেন।

কারণ গাছকাটাছড়া আর্মিক্যাম্পে নিরাপত্তার স্বার্থে সেগুলো দেখাতে ও প্রয়োজনে জমা দেওয়া লাগতে পারে।আবার যারা বিলাই ছড়িতে রাত্রি যাপন করতেচান তাহলে বিলাই ছড়ি বাজারে নিরিবিলি বোর্ডিং, স্মৃতিময় আবাসিক বোর্ডিং ওবি লাইছড়ি রেস্টহাউজ রয়েছে।খাবারের জন্য বাজারে একাধিক পাহাড়ী ও বাঙ্গালীর হোটেল রয়েছে।এবং উপজেলার পাশে ধুপ্যাচরগ্রামের ২/১ টিদোকানে পছন্দমত খাবারের অর্ডার নেওয়া হয়।ঝর্ণায় যাওয়ার জন্য বাজারের পাশাপাশি ধুপ্যাচর গ্রামেও বিভিন্ন সাইজের ইঞ্জিন চালিত বোট সুলভমূল্যে পাওয়াযায়।