ইতালী-যাত্রীর ডায়েরী – পর্ব ১

Italy

ভোর সাতটায় বেরুতে হবে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে। এরই মধ্যে এক পশলা বৃষ্টি রাস্তাঘাট আর গাছপালাকে ঝকঝকে করে দিয়েছে। চেক-ইন করাই ছিল। তাই অতি দ্রুত অভিবাসন পর্ব শেষ করে ঢুকে পড়লাম এয়ার-সাইডে। DXB-টা তো শুধুই বিমানবন্দর না, এটা একটা অতিকায় শপিং-মলও বটে। এছাড়াও ভালো ভালো রেস্তোঁরা তো রয়েইছে।

গতরাতের মাংসাহার হজম হয়ে খিদে পাচ্ছিল বেশ। তাই ঢুকে পড়লাম এমিরেটস-এর বিলাশবহুল বৈঠকখানায়। টাকা ঢাললে আতিথেয়তার অন্ত থাকে না, এর আবারও প্রমাণ পেলাম এই লাউঞ্জে। ৫-তারা মানের প্রাতঃরাশ অপেক্ষা করছে যাত্রীদের জন্য। ধূমায়িত স্যালমন, বেনেডিক্ট সাহেবের ডিম, ফরাসী রুটি, আরবী ছাতুর পেস্ট (হামুস) আর গাজরের শরবত দিয়ে নাস্তা সেরে শুল্কমুক্ত দোকানগুলোতে ঢুঁ মারলাম। ইলেক্ট্রনিক্স, ঘড়ি, চকোলেট, সুরা, ম্যাগাজিন, সুগন্ধি ইত্যাদি দেখতে দেখতে কখন যে সময় হয়ে এল জানিনা। ঘড়ির দিকে তাকিয়েই আঁতকে উঠে বিমানের গেটের পানে দিলাম ছুট। অনেকটা হাঁপাতে হাঁপাতেই যখন পৌঁছুলাম, দেখি বিমানের দরজা বন্ধ করে করে অবস্থা। এটা আমার চিরকালের কপাল! কতবার যে শেষ যাত্রী হিসেবে বিমান থেকে মাইকে আমার নাম ঘোষণা করতে হয়েছে, তার হিসেব নেই। যা’হোক, বোর্ডিং পাশ দেখিয়ে এমন-কী-বা-হয়েছে মার্কা একটা ভাব করে উঠে পড়লাম বিমানে।

বিমান চলাকালীন ফোন বন্ধ রাখতে হবে, এটা যে একটা বাজে কথা, তা’র প্রমাণ এই এমিরেটস। ওয়াই-ফাই চালু রেখে দিব্যি তো’ এই ডায়েরী লিখে চলেছি আকাশে ৩৪ হাজার ফুট ওপরে। পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে এত উঁচুতেও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সবার সাথে যুক্ত থাকাটা কেমন যেন একটা বেশ রোমাঞ্চকর ব্যাপার! বিমানের গায়ে বসানো বিভিন্ন ক্যামেরা দিয়ে দেখছি বরফে ঢাকা ইরাকের পর্বতমালা। একটু পরেই প্রবেশ করবো ইস্তাম্বুলের আকাশে। দুবাই থেকে প্রায় ৩৯০০ মাইল দূরে ভেনিস শহর। ৬ ঘন্টায় পাড়ি দেব এ পথ।

বেশ মুখরোচক সব খাবার-দাবার সাধছেন বিমানবালাগণ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এই যাত্রীসেবক বাহিনী নয়টি ভাষায় পারদর্শী। খাবারগুলো দেখে পেটটা আবার কেমন যেন গুড়গুড় করতে শুরু করেছে। আপাততঃ ডায়েরী বন্ধ। বিমানে মধ্যাহ্নভোজন শেষে ইন্টারঅ্যাক্টিভ পর্দায় একটা বাংলা সিনেমা দেখবো বলে ভাবছি। (চলবে)

লেখকঃ সৈয়দ আলমাস কবীর, প্রেসিডেন্ট, বেসিস।