ইতিহাসের সাক্ষি পাবনার দুলাইয়ের জমিদার বাড়ি

অলোক আচার্য,পাবনা প্রতিনিধি : পাবনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন স্থাপনা। যেসব স্থাপনার সাথে জড়িয়ে রয়েছে পাবনা জেলার গৌরবমন্ডিত ইতিহাস। সময়ের আবর্তনে সেসব স্থাপনার দেয়ালে ধুলো পরলেও এসবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কমেনি এতটুকও। আজও এসব ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো দেশের বিভিন্ন সময়ের ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশেষ করে জমিদার,পাইক,বরকন্দাজ এস শব্দ যা কেবল বইয়ের পাতায় স্থান পেয়েছে।

পাবনার অনেক ঐতিহাসিক পুরাকীর্তির মধ্যে সুজানগর উপজেলার আজিম চৌধুরির জমিদার বাড়ি উল্লেখযোগ্য। আজিম চৌধুরির নাম আজও বেড়া, সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলার মানুষের মুখে মুখে। জমিদার বাড়িটি সুজানগর উপজেলার দুলাইয়ে অবসি’ত। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়,জমিদার বাড়িটির ইতিহাস প্রায় আড়াইশো বছর আগের। যার এখন কেবল ধ্বংসাবশেষই অবশিষ্ট আছে। এই জমিদার বাড়িতে রয়েছে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত মঠ,একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অট্ট্রালিকা ও পুকুর। ১২০ বিঘা জমির ওপর আজিম চৌধুরি এই অত্যাধুনিক ডিজাইনের অট্ট্রালিকাটি নির্মাণ করেন।

অত্যন্ত প্রভাবশালী এই জমিদারবাড়ীতে একসময় জমিদারির সব কিছুই ছিল। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর জমিদারের বংশধরদের মধ্যে বিরোধের কারণে বাড়িটি দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত ছিল। এই সময় দুর্বত্তরা প্রায় সবকিছুই লুট করে নিয়ে যায়। পরে আইনী সমস্যা মিটলেও ততদিনে বাড়িটি ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়। সবার দাবী এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটির যথাযথ সংরক্ষণ করা হোক। পাবনা টার্মিনাল থেকে বাস বা সিএনজি নিয়ে দুলাইয়ে এই জমিদার বাড়িতে ঘুরে আসা যায়।