কুমিল্লার গোমতী নদী কি হাতিরঝিলের রুপ পাবে

মোঃ সাফায়েত হোসেন (কুমিল্লা)নাঙ্গলকোট প্রতিনিধিঃ  কুমিল্লা নগরীর পুরনো গোমতী নদীর অধিকাংশ প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে। দখল হওয়া নদীর এ বিশাল এলাকাজুড়ে সরকারি জমিতে নির্মিত হয়েছে দোকানপাট ও বহুতল ভবন। নদীর বাকি অংশে সুয়ারেজ লাইন এবং আবর্জনা ফেলায় তা মরা খালে পরিণত হচ্ছে। নদীটি দখলমুক্ত করে এখানে বিনোদন পার্ক করা যেতে পারে। এতে বাড়বে নগরীর সৌন্দর্য। সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে নির্বাচিত মেয়র মনিরুল হক সাক্কু পুরাতন গোমতী নদীকে হাতিরঝিলে রূপ দেওয়ার ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন। নগরবাসী এ ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন চায়। সূত্রমতে, পুরাতন গোমতী নদী থেকে এক যুগ ধরে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করার জন্য প্রশাসন থেকে পদক্ষেপ নিলেও রাজনৈতিক এবং বিভিন্ন কারণে আজও তা কার্যকর হয়নি। প্রস্তুত করা হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী ২৫৮.৭৪ একর স্থানে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে এমন খবর জেনে দখলদাররা অভিযান ঠেকাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে তদবির অব্যাহত রেখেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোমতী নদী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিবিরবাজার সীমান্ত দিয়ে কুমিল্লা জেলায় প্রবেশ করে। শহর রক্ষার জন্য এ নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হলে শহরের উত্তর প্রান্তে কাপ্তানবাজার থেকে শুভপুর পর্যন্ত দীর্ঘ নদীটি পুরনো গোমতী নদী নামে পরিচিতি লাভ করে। এরপর থেকে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখলে নিয়ে নির্মাণ করে বাড়িঘর ও দোকানপাট। কেউ কেউ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের যোগসাজশে বহুতল ভবনও নির্মাণ করে ফেলেছে। সূত্র জানায়, শুভপুর, চাঁনপুর, সুজানগর, গাংচর, টিক্কারচর, গয়ামবাগিচা, মোগলটুলী (শাহসুজা মসজিদ রোড), পুরাতন চৌধুরীপাড়া, কাপ্তানবাজার, ভাটপাড়া, বিষ্ণপুর ও বজ্রপুর এলাকার মধ্যে পুরাতন গোমতীর দুই পাড়ের প্রায় ২০০ একর সরকারি ভূমি দখলদারদের কবলে রয়েছে। এর মধ্যে ৫২২ জন দখলদারের তালিকা করা হয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে এসব দখলদারকে ৮-৯ বার উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হয়। দখলদারদের মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা থাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। তাই এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি প্রশাসন।

সূত্র আরো জানায়, আদর্শ সদর উপজেলা ভূমি অফিসের আওতাধীন অবৈধ দখলীয় খাস জমি ও জলাভূমির তথ্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর গত বছরের ১৮ জানুয়ারি আদর্শ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামীম হোসেন পাঠিয়েছিলেন। ওই তথ্যে অবৈধ দখলীয় কৃষি জমির পরিমাণ ১৫৬.৭৪ একর অবৈধ দখলীয় অকৃষি খাস জমির পরিমাণ ১০২ একর উল্লেখ করে ওই অবৈধ দখলীয় ভূমি থেকে অবৈধ দখলদারমুক্ত করার পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উল্লেখ করা হয়। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উত্তর প্রান্তে শুভপুর এবং দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে চকবাজার হয়ে টিক্কারচর শ্মশানঘাট পর্যন্ত গোমতী নদীর পূর্ব প্রান্তে টিক্কারচর সুইপার কলোনির পর থেকে শ্মশানের কাছাকাছি পর্যন্ত নদীর পাড় দখলের সঙ্গে নদীর অংশও দখলে নিয়ে অবৈধভাবে শতাধিক ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কুমিল্লার সভাপতি ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নদীটি দখলমুক্ত করে এখানে বিনোদন পার্ক করা যেতে পারে। নদীটি রক্ষায় আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। জেলা প্রশাসক ও সিটি মেয়রকে স্মারকলিপি দিয়েছি। সদ্য নির্বাচিত মেয়র মনিরুল হক সাক্কু পুরাতন গোমতী নদীকে হাতিরঝিলে রূপ দেওয়ার ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন। সাক্কু এ ঘোষণার বাস্তবায়ন করবেন বলে আশা করি।’ কুমিল্লার সদ্য নির্বাচিত সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘পুরাতন গোমতী দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’পুরাতন গোমতী নদীকে হাতিরঝিলে রূপ দেওয়ার বিষয়ে সাক্কু বলেন, ‘ইশতেহারে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।