ঘুরে আসুন অপরূপা সোনাইছড়ি

FB_IMG_1577023536557

মুহাম্মদ শাফীউল ইসলাম,চান্দগাঁও,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : সোনাইছড়ি ট্রেইল একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লিলা ভূমি। এটি অবস্থিত সীতাকুণ্ডের মীরসরাই পাহাড় রেঞ্জের হাদি ফকিরহাট বাজার এলাকায়। বন্য ও পাথুরে সোনাইছড়ি ট্রেইল বারৈয়াঢালা অভয়ারণ্যের অন্তর্ভক্ত। এই ট্রেইলটি মীরসরাইয়ের অন্যান্য দর্শনীয় স্থান হতে সম্পূর্ণ আলাদা ও বিচিত্রময়।  এটি প্রায় ২৮ কিঃ দীর্ঘ একটি ট্রেইল।  অন্যান্য  ট্রেইলগুলো থেকে যেমন একদম আলাদা তেমনি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণও। বর্ষা কালে এর ভয়াবহতা বেড়ে যায় আরো কয়েকগুন বেশি। বৈচিত্র্যময় এই ট্রেইলটি পুরো মাত্রায় বুনো এবং পাথুরে।

সোনাইছড়ি ট্রেইলেরসৌন্দর্য ফুঁটে উঠে তার পাথুরে পথ আর বোল্ডার এর মাধ্যমে, এই ট্রেইলে তিন্দুর বড় পাথরের মত প্রচুর বড় বড় পাথর পরিলক্ষিত। পাথুরে এই ট্রেইলে বড় বড় পাথরের ঢল আর পাহাড়ি সৌন্দর্য সত্যি মনমুগ্ধকর ও রোমাঞ্চক, এটি দর্শনার্থীকে  নিয়ে যাবে এক অজানা রাজ্যে, যেথায় মানুষ স্বস্থির নিশ্বাস ফেলতে পারে। তবে এটি দেখতে যত না রোমাঞ্চকর তার চেয়ে বেশি ভয়ঙ্গকর। বর্ষায় পিচ্ছিল হয়ে যায় পাথরের বড় বড় বোল্ডারগুলো। পুরো পথটাই বড় বড় পাহাড়, গভীর গিরিখাত, উঁচু নিচু ছড়া আর গভীর কুমে ভরা, তবে শেষ পর্যন্ত ট্রেইলের শেষ মাথায় মনমুগ্ধকর সোনাইছড়ি ঝর্ণা পাওয়ার পর পর্যটক তার সকল ভীত ভুলে যাবেন। সম্পূর্ণ পথটা ভয়ঙ্গকর ও অন্তরকে শীহরিত করবে। বর্ষায় যাওয়া খুবই বিপজ্জনক,তাই শুকনো মৌসুমে যাওয়াটাই শ্রেয়। বড় বড় বোল্ডার আর গিরিপথ দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া,খাড়া খাড়া পথ বেয়ে উপরে উঠা, এডভেঞ্চার ট্যুরিস্টদের জন্য এটি যথাযথ একটি স্থান। চলার পথে কোথাও কোথাও  ক্ষীণ আলো আবার কোথাও সম্পূর্ণ উন্মুক্ত আকাশ।

প্রতিটি মূহুর্তে এর রূপ বদলায়,এখানে রয়েছে বাদুইজ্জা কুম বা সুড়ঙ্গ, এটি অতি সংকীর্ণ অথচ বিস্তৃত গভীর কুম, যার দুপাশের পাথুরে দেয়াল খাড়া ১০০-১৫০ ফুট উঁচু। ভেতরে গহীন অন্ধকার তার মাঝে বাঁদুরের ডানা ঝাপটানো আর কিচ কিচ চিৎকারে এক ভিতীকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এক ভয়াবহ ভুতুড়ে আবহ এবং ভৌতিক এক পরিবেশের সৃষ্টি করে।তাই সোনাইছড়ি ট্রেইলটি এডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য তৃঞ্চা নিবারক হিসেবে কাজ করে। যার ফলে এই অমোঘ আকর্ষণ পর্যটকদের  টেনে নিয়ে যায় এডভেঞ্চার রোমাঞ্চকর সোনাইছড়ি ট্রেইলে।

একদিনেই সোনাইছড়ি ভ্রমণ করা যায়। তাই রাতে থাকার প্রয়োজন হয়না, তারপরও যারা থাকতে চাইবে তারা মীরসরাই বা সীতাকুণ্ডে কিছু নিম্নমানের হোটেল পাবেন। সীতাকুণ্ড বাজারে আছে হোটেল সাইমুন। ভালো মানের হোটেল নাই বললেই চলে।ভাল মানের হোটেলে থাকতে চাইলে চট্টগ্রামে চলে আসতে হবে। চট্টগ্রামে নানান মানের হোটেল আছে । নীচে কয়েকটি বাজেট হোটেলের নাম ও ঠিকানা দেয়া হলোঃ

★হোটেল প্যা রামাউন্ট, স্টেশন রোড, চট্টগ্রাম। ভাড়া: নন-এসি সিঙ্গেল ৮০০ টাকা, ডাবল ১৩০০ টাকা, এসি ১৪০০ টাকা ও ১৮০০ টাকা । যোগাযোগ : ০৩১-২৮৫৬৭৭১, ০১৭১-৩২৪৮৭৫৪।

★হোটেল এশিয়ান এসআর, স্টেশন রোড, চট্টগ্রাম। ভাড়া : নন এসি : ১০০০ টাকা, নন এসি সিঙ্গেল। এসি : ১৭২৫ টাকা । যোগাযোগ: ০১৭১১-৮৮৯৫৫৫।

★হোটেল সাফিনা, এনায়েত বাজার, চট্টগ্রাম। একটি পারিবারিক পরিবেশের মাঝারি মানের হোটেল । ভাড়া : ৭০০ টাকা থেকে শুরু । এসি ১৩০০ টাকা । যোগাযোগঃ ০৩১-০৬১৪০।

★হোটেল নাবা ইন, রোড ৫, প্লট-৬০, ও আর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম। যারা নাসিরাবাদ/ও আর নিজাম রোড এলাকায় থাকতে চান তাদের জন্য আদর্শ । ভাড়া : ২৫০০/৩০০০ টাকা । যোগাযোগঃ০১৭৫৫ ৫৬৪৩৮২।

★হোটেল ল্যান্ডমার্ক, ৩০৭২ শেখ মুজিব রোড, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম। ভাড়া-২৩০০/৩৪০০ টাকা যোগাযোগ: ০১৮২-০১৪১৯৯৫, ০১৭৩১-৮৮৬৯৯।

যাতায়াতঃ ঢাকা হতে চট্টগ্রাগামী যে কোন বাসে করে হাদি ফকিরহাট বাজারে নামতে হবে। ভাড়া পড়বে ৪২০ থেকে ১১০০ টাকা (এসি)। এছাড়া ট্রেনে চড়েও সীতাকুণ্ড নেমে হাদি ফকিরহাট আসা যায়। সেখান থেকে হাদি ফকিরহাট জামে মসজিদ এর গলি ধরে হেঁটে কিংবা সিএনজি নিয়ে বড় পাথর যেতে হয়,সেখান থেকেই ট্রেইলের শুরু। হাদি ফকিরহাট এর শেষে পাহাড়ের শুরু থেকে সোনাইছড়ি ট্রেইলের শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা।

প্রয়োজনীয় ভ্রমণ টিপস:

মীরসরাই রেঞ্জ এর এটি সবচেয়ে ভয়ানক ট্রেইল। তাই বর্ষা হোক বা শীত সাথে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট রাখতে হবে,এবং একাধিক কাপড় সঙ্গে রাখা উত্তম হবে।