জাপান থেকে আসছে অত্যাধুনিক রেল কোচ

ইমাম হোসেন শাকিল ( জেলা প্রতিনিধি, ফেনী):এই তো বছর কয়েক আগের কথা। বড় স্বপ্ন দেখতে কেমন যেন ভয় ভয় করতো। পত্রিকায় দেখতাম ‘কোটি টাকার প্রকল্প’। কোটি শব্দটাই তো ছিল বিশাল কিছু। টিভিতে বিভিন্ন উন্নত দেশের যোগাযোগের মাধ্যম দেখতাম আর হা হয়ে থাকতাম। বাংলাদেশে আবার এসব হবে নাকি কোনো দিন!

বছর চার আগের কথা। থাইল্যান্ড গিয়েছিলাম এক সফরে। ওখানকার মেট্রোরেলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে গ্রাম থেকে শহরে আসা স্বল্পশিক্ষিত কোনো ব্যক্তি হিসেবে মনে হলো। প্রথম দেখছি, প্রথম চড়ছি মেট্রোরেলে। সবকিছুতেই মুগ্ধতা। শুধু মনে মনে একটু বিষন্ন লাগলো… আমাদের যদি থাকতো!ওসব যদি, কিন্তু আর হয়তোর দিন ফুরিয়েছে। পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হওয়ার পর আমাদের হৃদয়ের বিশালতা বেড়েছে কয়েক গুণ। এবার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে মেট্রোরেল। বসেছে স্প্যান, পিয়ার আর দৃশ্যমান হয়েছে বহু পিলার।

উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রথম মেট্রোরেলের রুট হবে। এ রুট চলতি বছরের মধ্যে শেষ করতে দিনরাত কাজ চলছে প্রকল্পজুড়ে।দিয়াবাড়িতে পিলারের ওপর গার্ডার জোড়া দিয়ে দেড় কিলোমিটার মেট্রোরেল দৃশ্যমান করা হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে জাপান থেকে আসছে ৫ সেট অত্যাধুনিক রেল কোচ। রেলকোচ চলার উপযোগী করার জন্য গার্ডারের ওপর রেলপথ স্থাপনের কাজ এখন শুরু হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দেড় কিলোমিটার গার্ডারের ওপর ট্রেনলাইনের বসানোর আগে যেসব কাজ করতে হয় তার আয়োজন চলছে। প্রকল্পের সিপি৩ সিপি৪ এ দুটি প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত দিয়াবাড়ি থেকেআগারগাঁও অংশ। এ রুটে ১০ টি স্টেশন হবে। মেট্রোরেলের প্রথম স্টেশন উত্তরা উত্তর, এরপর উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর ১১, মিরপুর সেকশন-১০, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছর শেষে মেট্রোরেল ট্রেনসেটসহ একটি পুরোপুরি দৃশ্যমান অবকাঠামোতে রূপ নেবে। প্রায় ৭০ শতাংশ মেট্রোরেলের কাজ তখন শেষ হয়ে যাবে। তবে আগামী বছরের শুরুর দিকে ট্রেনসেট দিয়ে মেট্রোরেল উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চালানো যেতে পারে। এর মধ্যে স্টেশনগুলো নির্মাণ করতে হবে। স্টেশনের ডিজাইনসহ প্রাথমিক কাজ আগেই শেষ করে রাখা হয়েছে।

মেট্রোরেল ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, ‘ভায়াডাক্ট সাজানো হয়েছে দেড় কিলোমিটার। ট্রেনসেট আসার আগে ৬০-৭০ শতাংশ ভায়াডাক্টসহ রেললাইন হয়ে যাবে।’তবে মেট্রোরেলের দ্বিতীয় অংশ আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের এখনও অগ্রগতি ৫ শতাংশের কম। এ অংশ ২০২২ সালে শেষ করতে পরিকল্পনা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের।

জানা গেছে, আধুনিক এ রেলপথে নিয়মিত ১৪ জোড়া ট্রেন চলাচল করবে। প্রতিটি ট্রেনের যাত্রী পরিবহনের ক্ষমতা হবে এক হাজার ৬৯৬ জন। এর মধ্যে ৯৪২ জন বসে এবং ৭৫৪ জন দাঁড়িয়ে যেতে পারবেন। ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতির মেট্রোরেল উত্তরা থেকে মতিঝিল পৌঁছাবে ৩৭ মিনিটে। প্রতি চার মিনিট পরপর ট্রেন ছেড়ে যাবে। ফলে উভয় দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারবেন। এতে সময় ও অর্থ— দু’টোরই সাশ্রয় হবে নগরবাসীর।

এমন একটি সুখকর সম্ভবনা সামনে রেখেই এগোচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত মেট্রো রেলপথ নির্মাণের কাজ। আর মেগাসিটি ঢাকার দেড় কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন— নির্মাণ কাজ শেষে কবে শুরু হবে মেট্রোরেলের যাত্রা!