থাইল্যান্ড ভ্রমণঃ ২৮তম পর্ব

Thailand 28

মাহাতাব লিটনঃ রাজকীয় বাসে যাত্রার আনন্দটাই অন্যরকমের। কি চমৎকার ব্যবস্থাপনা যতই দেখছি ততই অবাক হচ্ছি আমরা। ভাবছিলাম ১৫ কিলোমিটার ৫০০ বাথ আর ৮৫০ কিলোমিটার ১জনের মাত্র ৫৮০ বাথ তার উপর কফি, পানি ও বিস্কুট, রাতের খাবার ফ্রি এবং প্যাকেটজাত কম্বলও একটি । ইচ্ছে করলেই বা বেগ পেলেই অনায়াসে ঝকঝকে তকতকে টয়লেটে যেতে পারেন যাত্রীরা। সব মিলিয়ে প্রথম শ্রেণীর যাত্রী হিসেবে ভেতর শীতল যাত্রায় আহা প্রশান্তি সে টের পেলাম এই মে মাসের নিম্নবিত্তের ব্যাংকক যাত্রায়।

আমাদের বাস চলছে আর চলছে কি আশ্চর্য্য কোনো ঝাঁকুনি নেই, কোনো হর্ণ নেই। আমাদের মত বাঙালীদের এতো সুখ কি আর সহ্য হয়। আরামে তন্দ্রায় নিদ্রায় আমাদের উইকেট গুলো পড়তে লাগল।

হঠাৎ বুঝতে পারলাম আমাদের রাজকীয় বাসের যাত্রা বিরতি মানে খাবার বিরতি। বিশাল বিশাল রেস্টুরেন্ট। বাসের গাইডকে ফলো করে সামনে এগিয়ে যাই। আমাদের নিজেদের গাইড মম মনি হোটেল ঢুকতে ঢুকতে জিজ্ঞেস করলেন

-হালাল হালাল খাবার আছে।

– নো নো হালাল ফুড

– নো হালাল ফুড

– নো

এবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল তাঁর। মেয়ে খাবে কি? চিন্তা এসে ভর করল আমাদের সবার উপর। কি হবে এতোটা পথ বাকি। চারদিকে পর্ক আর পর্ক দিয়ে সাজানো নানা স্বাদের খাবার। আমাদের মত আরও দুই তিন জনকে দেখলাম তাঁদের অবস্থাও আমাদের মত। কিন্তু এতোটা ভেঙে পড়েনি। টোকেন নিয়ে রেফ্রিজেটর থেকে জুস বা মিল্কের বোতল গুলি নিচ্ছে। হোটেল থেকে এক ভদ্র্রলোক বেরিয়ে এসে বললেন আপনারাও ড্রিংক্স নিতে পারেন।

অবশেষে আমরাও জুসের বোতল নিলাম যারযার পছন্দ মত।জুস, বিস্কুট ও চিপস্ দিয়ে রাতের আহার সম্পন্ন হল।

কিন্তু আমরা ফুকেট যাবার পথে যখন খাবার বিরতি ছিল সেবার হালাল খাবারের আলাদা বুথ ছিল।

এবার ভাগ্যটা পক্ষে নেই।

এখনো অর্ধেক পথ বাকি, আশাকরি ভোরবেলা ব্যাংকক পৌঁছে যাব। তারপর না হয় পেট ভরে নাস্তা খাওয়া যাবে। পাশের সিটে কন্যারা ও তাদের মা ঘুমিয়ে পড়েছে। পথ চলতে চলতে কাঁচের জানালায় দেখি রাতের মহাসড়কের পাশে বড় বড় ফলের বাজার। মাঝে মাঝে দেখি বড় বড় ভ্যানে উপর সারি সারি গাড়ি যাচ্ছে। আট লেনের মহাসড়কে গাড়িগুলো চলছে। কত সুশৃঙ্খল ভাবে। কোলাহল ও হর্ণ মুক্ত শহরে আমরা বারবার অভিভূত হই।

গভীর রাত পেরিয়ে ধীরে ধীরে পূবের আকাশ লাল হয়। আমরাও ধীরে ধীরে ইটপাথরের জঙ্গলে ঢুকে পড়ি। ফ্লাইওভারের ব্যাংকক শহরে। বাসও চলতে চলতে বুঝি ক্লান্ত প্রায়। স্পিড কমতে শুরু করে হাতের বামে টার্ন নিতেই বুঝতে পারি আমরা গন্তব্যে পৌঁছে গেছি। (চলবে)

লেখকঃ মাহাতাব লিটন, প্রজেক্ট ম্যানেজার, WMPL