থাইল্যান্ড ভ্রমণঃ ৩য় পর্ব

3 yo

মাহাতাব লিটনঃ থাইল্যান্ডে যাওয়ার আগে পূর্বশর্ত ছিল ভাত ও ফল চাই। তিনি নেপালে যাবার আগেও শর্ত দিয়েছিলেন, কারণ ইন্ডিয়াতে তুমি আমাদের সারাটা পথ কিছু খাইতে দাও নাই। আরে আমি রাস্তার খাবার খাওয়ায় কি ডাইরিয়ারে দাওয়াত করবো। যাক বাবা পর্কের দখলে থাকা থাই খাবারের পাশে একটু হালাল খাবার আমার তিনির মনে প্রশান্তি দিল।

হালাল খাবার বুফে স্টাইলে সাজানো, যার যা পছন্দ নিচ্ছে খাচ্ছে আবার নিচ্ছে খাচ্ছে দাচ্ছে আবারও নিচ্ছে, অবাক ব্যাপার সময় কিন্তু দশ মিনিট। খাবার শেষ হওয়া হিজাব পড়া নারী কর্মী ছুটে গেলেন গরম খাবার আনতে। তা আমার তিনি নিজে না খেয়ে স্রোতস্বিনীকে খাওয়াতে ব্যস্ত।

এরপরবিশাল বিশাল কাঠের শিল্পকর্মের সামনের দাঁড়িয়ে ক্যামেরায় ক্লিক ক্লিক। বাসে উঠার আগেই দ্রুত টয়লেট যাওয়া সেকি টয়লেটতো না ফুটবল খেলার মাঠ।  বিশাল পানির হাউস, বদনা বা অাধুনিক কিছুই নাই টিস্যু দূরের কথা। কিন্তু বাইরে অাধুনিক চাকচিক্য স্থাপত্য বা নকশা দেখে বোঝার উপায় নাই ভেতরে সদর ঘাট মানে কুং ফুং স্টাইলে সব ব্যবস্থা। কে জানে সামনে আরো কত কি অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে।

ছোট কাজেই ভরসা রিস্ক কম। আবার যাত্রা শুরু পথের মাঝে মাঝে দেখছিলাম বিশাল বিশাল ফলের বাজার। কিন্তু এতো রাতে ক্রেতা কোথায়, মাঝে সাঝে দুই একটা প্রাইভেট কার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি।

এদিকে নতুন নতুন গাড়ির বহর ফুকেটের পথে আমরাও ফুকেটের পথে, মেইড ইন থাইল্যান্ড বা জাপানের সাথে যৌথভাবে দারুন দারুণ অত্যাধুনিক সুযোগসুবিধা সম্পন্ন গাড়ি ও মটরবাইক বানাচ্ছে। সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট থেকে ব্যাংকক হয় যতদুর এলাম খালি গাড়ি আর গাড়ি, বড় লড়িও অনেক। ৮ লেনের সড়কে মাঝে মাঝে রাজার ছবি জানান দিচ্ছে রাজতন্ত্রের জয়গান। একবিংশ শতাব্দীতে “চল রাজার জয় গান গাই”। রাজতন্ত্র কে এখন পরিবারতন্ত্র বললে বেশ লাগে। আমাদের সাবকন্টিনেন্টে এটা বেশ জনপ্রিয়।

৮৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ১২ ঘন্টা সময় লাগল। ফুকেট শহর আমাদের স্বাগত জানাল পাহাড় আর সকালের সূর্যোদয়। দুপাশে সারিবদ্ধ পাহাড় আর পাহাড় উঁচু নিচু মসৃণ কালোপিচ পথেই আমাদের সঙ্গী।  বুঝতে পারছি না আর কতদূর কাকে জিজ্ঞেস করবো। গাইড সেতো নিরুদ্দেশ। মাঝে মাঝে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে কিছু কিছু যাত্রীকে ড্রপ করছে।

আমাদের স্বপ্ন বা লক্ষ্য একটাই ফুকেটের জেমস বন্ড আইল্যান্ড দেখা, সেখানে কিছু মুহূর্ত ধরে রাখা। আমরা ফুকেট যাবার আগে বেশ কিছু পড়া শুনা করি আবার ইউটিউবে আইল্যান্ডসের ছবিও দেখি। সংগত কারণে না গেলেও বেশ পরিচিত সবই ইউটিউবের মাধ্যমে।

৫মে ভোর বেলা অামাদের দ্বিতল এসি বাসটি এসে ফুকেট বাস টারমিনাল ২ এসে থামল। আইল্যান্ডস ও সি বিচের জন্য যেতে হবে পাতঙ্গ বিচের কাছে। অনলাইনে হোটেল বুকিং নো, হোটেল বুকিং নো, বাংলাদেশ থেকে কোন প্যাকেজের লোভনীয় চমৎকার ম্যাজিক্যাল অফারকে নো বলে, একলা চলো রে। এবার হোটেল খোঁজার মত কঠিন চ্যালেঞ্জ, পাতঙ্গ যাবার জন্য গাড়ি খোঁজা। সব কিছুই দ্রুত সারতে হবে।

এদের বাস টারমিনাল আমাদের বিমান টারমিনালের চেয়ে অতি উত্তম ও উৎকৃষ্ট বৈকি। অনেক ঘোরাঘুরি করে ১টি ট্যাক্সি পেলাম মানে নিতে বাধ্য হলাম। আমি তো পাবলিক ট্রান্সপোর্টের রুট চিনিনা।

মিঃ বুন নামক মাঝ বয়সী একজন চালক হেববী একটা পাজরা গোত্রের গাড়িতে তুলে নিয়ে পাতঙ্গের পথে রওনা হলেন। সকালের ফুরফুরে বাতাসে আমার খুউব ঘুম পাচ্ছিল কিন্তু ছোট কন্যার আদর আর প্রশ্নবানে আমি বড় ক্লান্তিকে দূরে ঠেলে জেগে আছি।

খুউব টেনশন কখন যে প্রাতঃক্রিয়ার সম্পদনের এলার্ম বাজিয়া উঠে। আগে একটা হোটেল চাই। বলে রাখি ৪ তারিখে ঢাকা থেকে উড়াল বিকালে অবতরণ ব্যাংককে। কোনো রকম যাত্রা বিরতি ছাড়া আমরা ছুটিয়া চলিয়াছি অাহা বাংলাদেশি অভিযাত্রী। (চলবে)

লেখকঃ মাহাতাব লিটন, প্রজেক্ট ম্যানেজার, WMPL