থাইল্যান্ড ভ্রমণঃ ৩৩তম পর্ব

Thailand 33

মাহাতাব লিটনঃ ব্যাংককের সাফারি ওর্য়াল্ডে প্রতিটি ইভেন্ট দেখছিলাম আর অভিভূত হচ্ছিলাম। শুধু আমি না আমরা এবং আমাদের মতো যারা দর্শনার্থীরা।  সি লায়নের অসম্ভব সব গেমগুলো দেখার পর আমরা যখন ফিরে আসছিলাম। তখন দেখলাম বিশাল বিশাল অ্যাকুরিয়ামে নানা জাতের নানা মাছ আর মাছ। বিশাল আকৃতির সামুদ্রিক প্রাণী। মে মাসে তাপদাহ দেখে রক্ষার জন্য কৃত্রিম উপায়  তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। দুই পাশের মাছের অ্যাকুরিয়াম পার হবার সময়ে আমরাও পানির ছিঁটেফোঁটায় আমাদেরও দেহ একটু প্রাণ ফিরে পেলো।  দর্শকদের স্রোতে স্রোতে আমরাও হাঁটছি ফলো করছি নেক্সট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

এবার ডলফিন শো। আকর্ষনীয় ডলফিন শো দেখার জন্য। এবার মনে হল, পুরো সাফারি পার্কে আসা দর্শকই ছুটে এসেছে কেউ বাদ যায়নি। সেই আগের অবস্থা সবাই দৌড়ে যাচ্ছি কে কে সামনের সিটে বসতে চায়।

আমরাও সিট পেলাম সামনে থেকে চার পাঁচ সারি পেছনে। গিজগিজ করছে মানুষ, বিশাল পানির পুল দেখে মনে হবে আমাদের সামনে আস্ত একটা সাগর। পিছনে বিরাট নীল আকাশ আর ডলফিনের ছবি আঁকা। অর্ধবৃত্ত আকারে দর্শক গ্যালারী। সামনে ডলফিনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা। যেখানে নীল পানিতে কসরৎ দেখাবে ডলফিন।

আমরাও অধীর অপেক্ষায় কখন শুরু হবে সেই মুহূর্ত। উপস্থাপক এলেন সকলকে স্বাগত জানাল।

একে একে চারটি ভাষায় সবাইকে থাই, ম্যান্ডোলীন, এ্যারাবিক ও হিন্দি। এবং চারটি দেশের জনপ্রিয় গান গেয়েছিল।

বাহ্ অপূর্ব ডলফিনদের কসরৎ, ছয়টি ডলফিন মানুষের কথা বোঝে নাকি মানুষ ডলফিনের কথা বোঝে। থাক সেসব আগে গেমসটি ইনজয় করি। কি দারুণ ছন্দে মিউজিকের সাথে সাথে তারা প্রতিটি ইভেন্ট সমাপ্ত করছে। সেকি ডলফিন গান করতে পারে। তারা গান গেয়ে শোনালো। সত্যিই আমরা অভিভূত। বুঝতেই পারিনি যে দুপুরের আহারের সময় চলে যায়। সেই সাথে আবারও একটি কথা মনে করিয়ে দেই যদি বডলফিনের সাথে ছবি তুলতে চান তবে ৫০০ বাথ হাতে রাখুন।

পুনশ্চঃ থাইল্যান্ডের রাজাতন্ত্র কতভাবে না দেশের আয় বাড়াতে পারেন।

এবার তো গাইডকে খোঁজার পালা, কোথায় তিনি আর আমার দলেরতো কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। এবার স্ত্রী’র পরামর্শক্রমে হাঁটছি। অনেক ঘুরে ফিরে খাবারের স্থান খুঁজে পেলাম। সহস্র মানুষের ভীড়ে তাকে কোথায় পাব। সে আশায় গুড়ে বালি। চারটি বিশাল আকারের হোটেল। কি করি আমরা তাই ভাবছিলাম। অবশেষে ইন্ডিয়ান হোটেলের ভেতরে প্রবেশ। সেকি কান্ড খাবার নিয়ে রীতিমত যুদ্ধংদেহী ভাবসাব। কিসের কিউ টিউ যে যেভাবে পার আগে নাও খাও দাও বাড়ি যাও।

নাহ্ বিলম্ব নয় এবার খাবারের জন্য যুদ্ধে নামা। ঠেলে ঠুলে লাইন থেকে খাবার নিলাম। কারণ পরে যদি না পাই। ভেজ নন ভেজ সব ছিল। বাকিটা রুচির ব্যাপার। কোনটা নিবেন নিয়ে নিন। ফল থেকে আইসক্রিম সবই সংযুক্ত। যাহ্ এবার কোথায় বসে খাব। কোনোমতে জোর করেই অপরিচ্ছন্ন টেবিলে বসে গেলাম। গোগ্রাসে আহার সম্পন্ন হল। পানির সংকট পানি কই পানি কই। সেটাও ম্যানেজ হল। পেয়ারা আইসক্রিম কযেক রাউন্ড সম্পন্ন হল।

কি করব কে জানতো এতো ক্ষুধা লাগবে।

সমস্যা হলো টোকেন, যার যেমন টোকেন তার তেমন হোটেল শ্রেণীভেদে আমরাও। যাক সেই মুম্বাইয়ের পরিবারও দেখি খেয়েদেয়ে হোটেল থেকে বেরুতে।

আরও দুটি ইভেন্ট বাকি এ্যাকশন ড্রামা আর বার্ডস শো। ওহ্ কতো শো একদিনে কতটা আর চলে মানুষ্য ইঞ্জিন বটে । মনে রাখবেন সাফারি পার্কে পানি জুস কেক বিস্কুট খাবার কোনো কিছুই বাহির থেকে ভিতরে প্রবেশ নিষিদ্ধ। যদি পূর্বেই ক্রয় হয় তবে নিশ্চিত আপনার পরাজয়। ঠিক আমাদের মতো। সুতরাং ভেতরে শো গুলি ইনজয় করুন আর বাইরের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জলপান জলযোগ সবই ক্রয় করুন। সব পাবেন শুধু অ্যালকোহল ছাড়া।

সেকি বাঘের ছানা এক জাপানি দম্পতির কোলে বসে আহা কি পরম শান্তিতে ফিডারে দুগ্ধ পান। জ্বী কোলে নিবেন দুধ পান করাবেন সেকারনে আপনাকে ২০০০ থাই বাথ গুনতে হবে। না বাবা আমরা কোলে নিতে চাইনা বন্যেরা বনে সুন্দর এই শ্লোগানে বিশ্বাসী। আবার সামনে হাঁটতে থাকি.

লেখকঃ মাহাতাব লিটন, প্রজেক্ট ম্যানেজার, WMPL