থাইল্যান্ড ভ্রমণঃ ৩৬তম পর্ব

bangkok-infomation

মাহাতাব লিটনঃ ব্যাংককে সুকিমভিতের আশে পাশে গিজ গিজ করে বিদেশী পর্যটকরা। তাকে কেন্দ্র করে স্থাপিত হয়েছে অসংখ্য আবাসিক হোটেল। আমাদের অস্থায়ী নিবাস ছিল পাঁচ তারকা “হোটেল অ্যাম্বসিডর”। নাহ্ মন্দ না বিশাল হোটেল। আমরা ছিলাম টাওয়ারের ১৮ তলা।

প্রতিরাতে ডাবল বেড ২৭০০ থাই বাথ তার মানে বাংলাদেশের মুদ্রায় ৭২৯০। কিন্তু আমরা ডিসকাউন্ট পেলাম ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে বুকিং দিয়ে। আমাদের জন্য রাখা হল প্রতি রাত ২৩৫০ থাই বাথ মানে ৬৩৪৫ টাকা। মজার এই পরামর্শ দিলেন পাঁচ তারকা হোটেলের রিসিপশনাস্টি এক থাই তরুণী। কি জানি আমাদের বাহ্যিক দিক দেখে হয়তো মনে দয়া হয়েছিল। বলেছিল তুমি যদি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে বুকিং দাও তবে কিছুটা কম পাবে। আমরাতো কোনো মাধ্যম দিয়ে যায়নি। তাই ছুটে গেলাম সুমন ভাইয়ের কাছে। রংপুরের শালবনে বাড়ি। ব্যাংককে থাকেন দীর্ঘ দিন।

হোটেলের লবির পাশে বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন রকমের দোকান। সো পিস, গহনা, কাপড়ের দোকান ও টেইর্লাস, আছে গোটা তিনেক ট্রাভেল এজেন্সি। একটি কাজ করেন সুমন ভাই, মালিকের বাড়িও রংপুরে। কর্মরত সকল কর্মীরাই বাহের দেশের। মানে হামার অমপুরের (রংপুরের) ছাওয়াল। আমরা যে টুকু সময় ছিলাম দেখেছিলাম অনেক অনেক বাংলাদেশীরা আসছেন ডলার ভাঙ্গাতে থাই বাথ বা বাংলা টাকা নিতে। কেউ কেউ আসছেন চিকিৎসা সেবা সংক্রান্ত বা ট্রাভেল প্যাকেজের জন্য। বাইরে থেকে একটি টেইর্লাস মনে হলেও ভিতরে চলছে মেডিকেল ট্যুরিজমসহ নানা ব্যবসা।

সুমন ভাই তিনি দ্রুত একটি রুমের বুকিং অনলাইন কর্নফাম করে দিয়েছিলেন। সে কারণে কিছু টাকা ছাড় পেয়েছিলাম। আমরা থাকতাম লিফটের ১৭ মানে ১৮তলায়, মাঝে মাঝে হোটেল রুমের বিশাল কাঁচের দেয়াল দিয়ে দেখেতাম বাইরের সারি সারি সুউচ্চ অট্টালিকা। রাতের রঙিন শহরটা অন্যরকম।

এই শহরটাতেও অনেক মানুষ গিজগিজ করছে কিন্তু তারা সু শৃঙ্খলবদ্ধ। শহরের সড়কে হাজার হাজার নানা ব্রান্ডের গাড়ি কিন্তু সারিবদ্ধভাবে চলছে। কেউ ট্রাফিক আইন ভাঙ্গছে না। এমন কি হর্ণ বাজাচ্ছে না। এ সবই সম্ভব বুঝি নাগরিক হিসেবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা ।

ফুকেট থেকে পর ব্যাংককে আমরা প্রতিদিনই রাতে বা সকালে বাংলা খাবার খেতাম। হোটেলের পাশেই বাংলা হোটেলে খেতে খেতে ভাবতাম আহা কত সুস্বাদু তা রান্না তা যেমনই হোকনা কেন। আরও ভাল লাগত যখন খাবার খেতে রংপুরের আঞ্চলিক ভাষার টুকটাক মিস্টি বাক্য গুলি কানে আসতো। কেউ নতুন এসেছেন কেউ বা পুরানো। মানুষ গুলিকে দেখে মনে হয়েছিল হয়তো কোনোদিনও এই মানুষ গুলি হোটেলের এই পেশার সাথে সম্পৃক্ত ছিলনা। হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আজ ভাগ্য উন্নয়নে এসে ভিন দেশে কতো কস্ট করেন এই সাধারণ মানুষ গুলি। ডাল ভাত বা লাউ চিংড়ি দিয়ে বাঙালি খাবারের স্বাদ সেতো সোনার হরিণ পাওয়ার সমান। এই হোটেলের মালিক সেই রংপুর মানুষ যিনি একই সাথে বাংলাদেশের ও কানাডার নাগরিক। তিনি সফল ব্যবসায়ীও বটে।

স্ব পরিবারে তৃপ্তি করে খাবারের পালা শেষে হোটেলের সো পিসের দোকান গুলিতে ঢুঁ দেই।

আগামী কাল থাইল্যান্ডের বিখ্যাত ট্যুরিস্ট স্পট ফ্লোটিং মার্কেট দেখার প্ল্যান। ব্যাংকক থেকে অনেকটা দূর প্রায় ৭০ কিলোমিটারের পথ। হোটেলের সামনে ফুটপাতে পেয়ারা মাখা খেতে খেতে দুই একজন ট্যাক্সিড্রাইভারের সাথে কথা বললাম যাওয়া আসা কেমন খরচ কত থাই বাথ। ষাটোর্ধ্ব মিঃ বুন নামক একজন ট্যাক্সিড্রাইভারের সাথে কথা হলো। রাজি হলেন ৭০০ থাই বাথে নিয়ে যাবেন আসবেন। কথা মতো আগামী কাল সকালে তিনি অামাদের হোটেল থেকে উঠিয়ে নিবেন। বিনয়ী মানুষটি আমাদের সময়টা মনে করিয়ে দিয়ে গুড নাইট বলে ফিরে গেলেন।

তারপর সারাদিনের ক্লান্তি শেষে রুমে ফিরে আসি। অপেক্ষা আগামীকালের জন্য। (চলবে)

লেখকঃ মাহাতাব লিটন, প্রজেক্ট ম্যানেজার, WMPL