দিনাজপুরের রাজবাড়ি ‘রাজ বাঠিক’

rajbari1

তানজিম রহমান রিম্পা, দিনাজপুর, সদর প্রতিনিধি : দিনাজপুর রাজবাড়ি বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার সদর উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। রাজারামপুর গ্রামের সন্নিকটে এই স্থানটি ‌  নামে বিশেষভাবে পরিচিত। দিনাজপুর শহরের ৪ কি: মি: উত্তর  উপকন্ঠে ৪ শত বছরের পুরাতন রাজবাড়ী দিনাজপুরের অন্যতম প্রতণ-তাত্বিক সম্পদ।

দিনাজপুরে রাজবাড়ি রাজা দিনাজ স্থাপন করেন কিন্তু অনেকের মতে পঞ্চদশ শতকের প্রথমার্ধে ইলিয়াস শাহীর শাসনামলে সুপরিচিত রাজা গনেশ এই বাড়ীর স্থপতি। সপ্তাদশ  শতাব্দীর শেষের দিকে শ্রীমন্ত দত্ত চৌধুরী দিনাজপুরের জমিদার হন। কিন্তু শ্রীমন্ত দত্ত চৌধুরীর ছেলের অকাল মৃতুতে তার ভাগ্নে সুখদেব ঘোস তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। ১৬০৮ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত রাজবাড়িটি ছিল বৃহৎ দিনাজপুর জেলার ঐশ্বর্যের প্রতিক। শুরুর দিকে রাজবাড়ির অবয়ব এমন না হলেও ধীরে ধীরে রাজবাড়ি গড়ে উঠে তিলত্তমা হিসেবে। ১৯৫১ সালে জমিদারী অধিগ্রহণ বা প্রজাস্বস্ত আইন বাস্তবায়নের ফলে জমিদারি প্রথার উচ্ছেদ হয়। তখন হতে রাজবাড়িটি পরিত্যাক্ত হতে শুরু করে এবং জমিদারী প্রথা উচ্ছেদের পর হতে রাজবাড়ি  জৌলুস কমতে থাকে।

রাজবাড়ির প্রায় ১৬৬ একর বা ৬৭ হেক্টর জায়গা জুড়ে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল বিশাল প্রসাদ। যার মধ্যে রয়েছিল আয়না মহল, রাণী মহল ও ঠাকুরবাড়ী মহল। এ ছাড়াও ফুলবাগান, হীরাবাগ, সবজিবাগ, পিলবাগ, দাতব্যচিকিৎসা, অতিথি ভবন, কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা, প্রশাসনিক ভবন ও প্রসাদের মধ্যে কয়েটি বিরাট দীঘি রয়েছে। দ্বিতল আয়না মহলে নিচে উপরে মিলে ২২টি করে মোট ৪৪টি কক্ষ রয়েছে।  এই ভবনের মূল্যবান মার্বেল পাথর ও স্টটিকমতি খচিত ছিল। এছাড়াও রাজপ্রাসাদ এলাকায় জলসাগর, তোষাখানা, পাঠাগার সহ প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভবন এই মহলে অবস্থিত। আয়না মহলে উত্তরে রাণীর দেউড়ি পেরিয়ে রাণী মহল অবস্থিত ছিল।

আসলে বর্তমানে দিনাজপুর রাজবাড়ি বলতে এর অবশিষ্টকে বুঝায়। এ বেশিরভাগ অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। শুধু গুটিকয়েক স্থাপনা এখন বিদ্যমান। রাজবাড়ির প্রবেশপথে পশ্চিমমূখী একটি মিনার আকৃতির বিশাল ত্রৌরণ আছে। রাজবাড়ির সীমানার মধ্যে ত্রৌরণ আছে যার মধ্যে রাজবাড়ির প্রধান বর্গকার অংশে প্রবেশ করা হয়। রাজবাড়ির প্রধান অংশের পূর্বদিকে আর একটি সমতল ছাদবিশিষ্ট মন্দির আছে। যার মধ্যে অনেক হিন্দু দেব-দেবতার প্রতিমা বিদ্যমান।

এখানে যথারীতি পূজা আর্চনা হয়। বর্তমানে  সামমিতক যুগের এক বিরাট রাজবাড়ির অগনিত ধনসম্পদ ধ্বংস, অপচয় ও অতহূত হয়ে উহা এক ভূতরে বাড়ীতে পর্যবসিত হতে সুখের বিষয় এই যে, প্রতন্তত্ব বিভাগ ইতোমধ্যে বাড়ীর সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছে।