পাখিশূন্য হওয়ার পথে পাবনা বেড়ার অভয়াশ্রম

পাখিশূন্য পাবনার অভয়াশ্রম

অলোক আচার্য (পাবনা প্রতিনিধি) পাবনার বেড়া উপজেলার কৈটোলা গ্রামে আকাশকলি দাসের বাড়ি। এলাকার সকলে আকাশকলি দাসকে পাখি বন্ধু নামেই চেনে।বাড়িটির আয়তন প্রায় সাড়ে পাঁচ বিঘা। জঙ্গলাকীর্ণ বাড়ির গাছগুলোতে শত শত পাখির আনাগোনা দেখে মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েটল্যান্ড বায়োডাইভারসিটি রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্ট (ডবিস্নউবিআরপি) ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে বাড়িটিকে পাখি অভয়াশ্রম ঘোষণা দেয়। কাছে-দূরের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শণার্থীরা পাখি দেখতে নিয়মিত ভিড় জমান সেখানে। বিশেষ করে অক্টোবরের শেষ থেকে শুরম্ন করে গোটা শীত মৌসুম জুড়ে দর্শণার্থীদের ভিড় থাকে সবচেয়ে বেশি। কারণ এই সময়টাতে সেখানে দেশি পাখির সঙ্গে অতিথি পাখিরাও আশ্রয় নেয়। গত বছরগুলোতে পাখিপ্রেমিরা বাড়িটিতে গিয়ে পাখি দেখে মুগ্ধ হলেও এবার হতাশ হচ্ছেন। কারণ এবার সেখানে পাখি একেবারেই কম।

এ ব্যাপারে উপজেলার মনজুর কাদের মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিড়্গক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আকাশকলি দাসের বাড়িতে প্রতিবছরই পাখি দেখতে যাই। গত বছরেও সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য পাখি দেখে মুগ্ধ হয়েছি। কিনএবার সেখানে গিয়ে মন খারাপ করে ফিরে এসেছি। গতবারের তুলনায় এবার সেখানে সিকিভাগ পাখিও দেখতে পাইনি। যেগুলো দেখেছি মনে হয়েছে সেগুলো কেমন যেন আতঙ্কিত।

 বাড়িটির (পাখি অভয়াশ্রম) মালিক আকাশকলি দাসের বয়স ৮০ হলেও এখনও বিয়ে করেননি। বাড়িটিতে তিনি একাই থাকেন। পাখিদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণে এলাকায় তিনি পাখিবন্ধু নামে পরিচিত। আকাশকলি দাস মন ভার করে বলেন, গত বছরেও এ সময়ে বাড়িতে পাঁচ শতাধিক পাখি ছিল। অথচ এবার এক থেকে দেড়শ পাখি আছে কিনা সন্দেহ। পাখি কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করায় তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে পাখি শিকার ব্যাপক বেড়েছে। আমার বাড়িতে পাখিগুলো নিরাপদে থাকে। কাউকে ছুঁতেও দেই না। কিনখাবারের সন্ধানে ওরা বিল বা চরাঞ্চলে গিয়ে আর ফিরে আসে না। আর এভাবেই দিনকে দিন পাখির সংখ্যা কমছে।

  শুধু আকাশকলি দাসের বাড়িতেই নয়, গোটা উপজেলায়ই পাখির বিচরণ এবার কম। অন্যান্য বছর এ সময়ে উপজেলার বিল ও চরগুলোতে পাখিদের প্রচুর আনাগোণা দেখা যেত। কিনএবার পাখির দেখা মিললেও তা একেবারেই কম। এলাকাবাসী ও পাখিপ্রেমিদের মতে অবাধ পাখি শিকারের কারণেই এ অবসার সৃষ্টি হয়েছে।

  এলাকাবাসী ও পাখিপ্রেমিরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন বিল ও চরাঞ্চলে অবাধে পাখি শিকার চলছে। শৌখিন ও পেশাদার শিকারীরা বন্দুক, বিষটোপ, জাল ও বিভিন্ন ধরণের ফাঁদ পেতে এসব পাখি শিকার করছে। শিকার করা পাখি প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। বিল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, শীতের শুরম্নতেই বিলের পানি নেমে যায়। চরগুলোতেও সৃষ্টি হয় পাখিদের বিচরণের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ। এ সময় অল্প পানিতে মাছ ও ড়্গেতের আমন ধান খাবার জন্য বিল ও চরগুলোতে প্রচুর দেশি ও অতিথি পাখি আসে। আর এ সুযোগে একশ্রেণির শৌখিন ও পেশাদার পাখিশিকারি মেতে উঠছে পাখি নিধনে।

 এদিকে পাবনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৭৪ সালের বন্য প্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে পাখি নিধনে কঠোর শাসিত্মর বিধান রয়েছে। কিনখোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাস্তবে এখন পর্যন্ত উপজেলায় এই আইনের কোনো প্রয়োগ হয়নি।