ভালবাসা দিবসে পর্যটন এলাকার শিশুদের ভালোবাসা

IMG_20190214_174022

নিরত বরন চাকমা,বরকল(রাঙামাটি) প্রতিনিধিঃ শিশুর কাল খেলায় খেলায় যৌবনের কাল রসের মেলায় বৃদ্ধের কাল জ্বালায় জ্বালায়। আজ ভালবাসা দিবসে শিশুদের দিন কেটেছে খেলায় খেলায়। বরকল উপজেলায় অন্তর্গত চাইল্যতলী নামক এলাকার  মাঠ প্রাঙ্গনে কোমলমতি শিশুদের খেলা এবং একে অপরের একাত্ম ভালবাসার দৃশ্য দেখা গেছে। তাদের আজকের ভালবাসা চির জীবনের জন্য অটুট থাকুক।

এমন ভালবাসা, এমন বন্ধুত্ব  কে বা না চাই? হউক প্রেমিক -প্রেমিকার ভালবাসা, হউক বা বন্ধু -বন্ধুর ভালোবাসা, হউক ভাই বোনের ভালবাসে, হউক মা-ছেলের ভালবাসা,হউক বা বাপ-ছেলের ভালবাসা। ভালোবাসাই তো!কিন্তুু আমাদের সমাজে খারাপ লোকেরা ভালোবাসাকে বাণিজ্যিক করে তুলেছে। যার ফলে ঘটতে চলছে  ভূল বোঝাবুঝি, একে অপরের সন্দেহ, অবিশ্বাস ইত্যাদি। আসলে  ভালোবাসা নামক শব্দটি একটি পবিত্র শব্দ। ভালোবাসা শব্দটি অপরাধমূলক শব্দ না। মোট কথা ভালোবাসা অর্জনের চেয়ে ভালোবাসার মর্যাদা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু আজকের তরুন সমাজ  কয় জনে বা ভালোবাসার মর্যাদা দিচ্ছে? বর্তমান যুগের  ভালোবাসা হলো পান্তা ভাতের মতো।

সেইজন্য বলা যায় ভালোবাসা ভাল লাগা এক নয়। পৃথিবীর সৃষ্টি লগ্ন থেকে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ পেয়েছে। আমরা  শুনেছি সেই মমতাজ এবং সম্রাট শাহজাহানের ভালোবাসা, লায়লী মজনুর ভালোবাসা, রোমিও জুলিয়েটের ভালোবাসার কথা। কিন্তু তাদের ভালোবাসার মাঝে তো অপবিত্র ছিল না। বরং তারা একে অপরকে ভালোবেসে মরে গিয়েও তাদের  ভালোবাসা ইতিহাসের পাতায় জায়গা পেয়েছে। আজকে সমাজ যদি সেই পবিত্র ভালোবাসার কথা চিন্তা করতো তাহলে পৃথিবীতে নতুন করে মমতাজ শাহজাহান, লায়লী মজনু,রোমিও জুলিয়েটের জন্ম হতো। আর আজকের তরুণ সমাজ ভালোবাসা দিবসে পার্কে গিয়ে, বন জঙ্গলে গিয়ে, নাইট ক্লাবে গিয়ে ভালোবাসার নাম করে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়াত না। হ্যা,প্রথমেই বলেছি ভালবাসা অপরাধ না।কিন্তু  আজকের তরুণ সমাজ জেনে শুনে সেই অপরাধ করছে। আজকে ভালোবাসা দিবসে অনেক যুবক/যুবতী জীবন  যৌবনে রসের মেলায় দিন কাটাচ্ছে।আর ভালোবাসা নামে খেলছে নারকীয় খেলা।

কিন্তু অন্যদিকে যাদের বৃদ্ধ বাবা মা আছে তারা কেউ  ঘরের এক কোণে বসে,  কেউ বা রান্না ঘরে চূলার সামনে, কেউ বারান্দায় বসে, কেউ অফিসে বসে, কেউ দিন মজুরি করে, কেউ ভ্যান চালিয়ে সারাদিন  জ্বালায় জ্বালায় মরছে। আজকের ভালোবাসা দিবসে রসের মেলায় কাটিয়ে দেওয়া যুবক/যুবতীরা একমুহূর্ত কি মনে রেখেছে সেই জ্বালায় থাকা বাবা মায়ের  কথা?হয়তো  কারোর ছিলো, কারোর ছিলো না। যাই হোক, মনে রাখার মতো  সময় না পেলেও তবুও সভ্য সমাজের মানুষ হিসেবে বাবা মায়ের কথা ভাবতে হবে। শিশুদের মাঝে যেমনি একাত্ম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ পাচ্ছে তেমনি  আজকের তরুণ সমাজেও একাত্ম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ পাওয়াটা আবশ্যক রয়েছে।আর শিখতে হবে ভালোবাসা কি?