লাউচাপড়া অবকাশ কেন্দ্র, জামালপুর

মাহামুদুল হাসান (ঢাকা, মিরপুর প্রতিবেদক) : পৃথিবীর ভূখন্ডে ছোট্ট একটি দেশ বাংলাদেশ। তবে আমাদের এই বাংলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে অপার সৌন্দর্য। আর এই সকল সৌন্দর্যের সন্ধান এখনো হয়তো অনেকের কাছেই অজানা। তাই টেক-ট্রাভেল এর পক্ষ থেকে আমি নিয়মিত চেষ্ঠা করবো বাংলার অপার সৌন্দর্য আপনাদের কাছে তুলে ধরার জন্য। তারই ফলশ্রুতিতে আজ আমি আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিবো জামালপুর জেলার অন্তর্গত লাউচাপড়া অবকাশ কেন্দ্রকে। আমরা যারা শহুরে মানুষ আছি আমাদের খুব কমই সুযোগ হয় প্রকৃতির সান্নিধ্যে আসতে পারার। তবে আমরা যারা প্রকৃতি প্রেমি রয়েছি আমরা চাইলেই সহজেই আমাদের ছুটির দিনগুলোতে চলে যেতে পারি জামালপুরের লাউচাপড়া অবকাশ কেন্দ্র।

লাউচাপড়ার চারদিকে গারো পাহাড়ের সবুজ বন। পাহাড়ের গা বেয়ে আঁকা বাঁকা একটি সিঁড়ি উঠে গেছে একেবারে চূড়ায়। যেখানে রয়েছে বিশাল এক ওয়াচ টাওয়ার। যার উপওে উঠলে যতদূর দৃষ্টি যাবে দেখতে পাবেন শুধুই সবুজের বিস্তীর্ণ বিস্তার আর মিলবে প্রকৃতির হিমেল ছোঁয়া। দূরে দেখা যায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের আকাশ ছোঁয়া সব পাহাড়। চারদিকটা কেমন যেনো ছবির মত মনে হয়। এই পাহাড়ি জঙ্গলে রয়েছে নানান জাতের পশু পাখি। ধান পাকার মৌশুমে আবার মেঘালয় থেকে চলে আসে বুন হাতির দল।

লাউচাপড়ার পাহাড়ে বেড়িয়ে ক্লান্ত হলে নিচে রয়েছে একটি কৃত্রিম লেক। নিচে নেমে বসতে পারেন লেকের ধারে। লেকটি এখানকার পরিবেশকে আরো অসাধারন করে তুলেছে। পিকনিক মৌসুমে এখানে থাকে পিকনিক পার্টির ভিড়। জামালপুর জেলা পরিষদ পুরো জায়গাটি অবকাশ বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলেছে। চাইলে দেখে আসতে পরেন এখানকার উপজাতিদের ছোট্র একটি গ্রাম। গারো উপজাতিদের এ গ্রামের নাম দিকলাকোনা। এ গ্রামে ২২ পরিবারে রযেছে প্রায় ১০০ জন গারো উপজাতি।

কিভাবে যাবেন : লাউচাপড়া অবকাশ কেন্দ্র জামালপুর জেলার অধীনে হলেও যাওয়ার সহজপথ হলো শেরপুর হয়ে। ঢাকা থেকে শেরপুর, সেখান থেকে বাসে জামালপুর বকশিগঞ্জ ।  বকশিগঞ্জ থেকে রিকশা কিংবা ভ্যানে সহজেই যেতে পারবেন লাউচাপড়াতে।

ভ্রমন টিপস্ : কোথাও ঘুরতেগিয়ে পরিবেশের ক্ষতি সাধন হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকবেন এবং ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফালাবেন।