সাত রঙের চা খেয়ে আসুন শ্রীমঙ্গল গিয়ে

Seven coloured

মনজুরুল ইসলাম (জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার) সৌন্দর্যের  এক লীলাভৃমি। প্রতি নিয়ত এখানে দেশি বিদেশি ট্যুরিস্ট আসেন প্রকৃতির রুপ দেখার জন্য।  প্রকৃতির সাজ দেখার পাশাপাশি অনেকেই আসেন চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের সাত রঙের চায়ের স্বাদ নিতেও। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যারা বেড়াতে আসেন সাত রঙের চা বা সাত লেয়ারের চায়ের স্বাদ নিতে কেউই ভুলেন না।

এ চা জিভে জলের বদলে বিস্ময় জাগায় বেশি। আর এই চায়ের আবিস্কারক হলেন রমেশ রাম গৌড়। প্রায় এক যুগ ধরেই তিনি ওই চা বানাচ্ছেন।তার দুইটি দোকান রয়েছে। একটি শ্রীমঙ্গলে চা বাগান। অন্যটি মণিপুরী অধ্যুষিত রামনগর ও কালিঘাট রোডের ১৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ক্যান্টিনে। দোকানের নাম নীলকণ্ঠ চা কেবিন। রমেশ রাম গৌড় জানান, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার আটানিবাজারে যৌথভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায় নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু এক অংশীদার পুরো টাকা আত্মসাৎ করে নেয়। পরে তিনি ভাগ্য বদলের জন্য ২০০০ সালের মার্চ মাসের স্ত্রীসহ, তিন ছেলে, দুই মেয়ে ও ভাইকে নিয়ে তিনি শ্রীমঙ্গলে চলে আসেন। সঙ্গে ছিল মাত্র দেড় হাজার টাকা। রামনগর মণিপুরী বস্তিতে অল্প টাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকানে চাকরি নেন। কয়েক মাস যেতে না যেতেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন ফিনলে টি কোম্পানির কাকিয়াছড়া চা বাগানে একটি চায়ের দোকান দেন। এরপর নিজে গবেষণা করে ২০০২ সালে এক গ্লাসে সাত রঙের চা-০২ দুই-রঙা চা আবিষ্কার করে।

ধীরে ধীরে চায়ের স্তর বাড়াতে শুরু করেন। এ পর্যন্ত তার চায়ের কাপ সাত কালারের সাত স্তরে এসে দাঁড়িয়েছে। রমেশের রাম গৌড়ের সুনাম সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে। ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে চাকুরির প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি । গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল সরকারী হাসপাতাল উদ্বোধনকালে রমেশের সাত লেয়ারের চা পান করে প্রশংসা করেন। রমেশের আবিস্কৃত এ চায়ের মতো অবিকল চা এখন পাওয়া যায় অনেক স্থানেও। তবে তার চায়ের মতো স্বাদ নেই।

রহস্য জনক এই সাত রংঙের  চা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ভাবনীয় বিষয়। কিভাবে একটি গ্লাসে সাতটা রংঙের স্তর। এক লেয়ার অপর লেয়ারের সাথে মিশে না, কিভাবে এ চা তৈরি করা হয়। এই রহস্যময় চা পর্যটকদের আরও আকর্ষন বাড়িয়ে দেয়। তাইত বেড়াতে আসা পর্যটনকা স্বাদ নেন এক গ্লাস সাত রঙের চায়ের। চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসা মানে সাত রংঙের বা সাত লেয়ারের চায়ের সাথে পরিচিত হওয়া। কিভাবে তৈরি করা হয় সাত রঙের চা জানতে চাইলে এ চায়ের আবিষ্কারক রমেশ রাম গৌড় ‘নবজোয়ার টোয়েন্টিফোরডটকম’কে হাসি মুখে বলেন এটা বলা যাবে না।এটা বললে এই চায়ের আর জনপ্রিয়তা থাকবেনা। কথা বলার এক ফাঁকে তিনি বলেই ফেললেন গ্রীন চা,ব্লাক চা,লেবু,অাদা,দুধ মিশ্রনেই তৈরী করেন এ চা।

তিনি বলেন আমার চায়ের সাত রঙের চা-৩ মধ্যে কোন ক্যামিকেল নেই। রমেশ বলেন
আমার চায়ের সাতটা রং পরিস্কার বুঝা যায়, অন্য জায়গায় বুঝা যায় না। সেটা চাইলে আপনিও দেখতে পারেন। আমার এখানে তৈরী করা হয় সাত কালারের চা আর অন্য জায়গায় তৈরি হয় সাত লেয়ার চা।

সাত রঙের বা সাত লেয়ারের চায়ের স্বাদ নিতে আপনীও আসতে পারেন চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে বা প্রকৃতির অপারলীলা ভূমি সবুজ গালিচার কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া উদ্যানে। ঢাকা,চট্রগ্রাম কিংবা অন্য শহর থেকে সিলেটগামী ট্রেনযোগে বা সড়ক পথে শ্রীমঙ্গলে বা কমলগঞ্জে আসতে পারবেন। তারপর রিকসা বা যে কোন বাহনযোগে শহরের শ্রীমঙ্গলে চা বাগানে অথবা মণিপুরী অধ্যুষিত রামনগর ও কালিঘাট রোডের ১৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ক্যান্টিনে রমেশের নীল কন্ঠ-এ আসতে পারেন। সাত লেয়ারের চা মিলে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যাণেও।