স্বপ্নের শহর ফুকেট

phuket-thailand-770x420

ইমাম হোসেন শাকিল (জেলা প্রতিনিধি, ফেনী) : থাইল্যান্ডের ব্যাংকক  থেকে প্রায় ৮৪৫ কিলো দূরে স্বপ্নের শহর ফুকেট অবস্থিত। এই শহর যেন বিনোদনের সকল পসরা সাজিয়ে রেখেছে এখানে আসা সকল পর্যটকদের জন্য। সমুদ্রের নীলাভ পানির হাতছানির সাথে আছে নানা ধরনের দুঃসাহসিক অভিযান যার অভিজ্ঞতা জীবনে একবার হলেও নেওয়া উচিত। আর পর্যটকরা তাই যেকোনো ছুটিতে ঘুরে আসতে পছন্দ করে এই স্বপ্নের শহর ফুকেট থেকে।

ফুকেটের দর্শনীয় স্থানথাইল্যান্ড এর ফুকেটের পুরো শহর জুড়ে আছে দেখার মতো অসংখ্য জায়গা। আছে বেশ কিছু সুন্দর বীচ যার স্বচ্ছ পানি আর মনোরম পরিবেশ মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে যে কাউকে। এমনই কিছু সুন্দর জায়গা পর্যটকদের ঘুরে বেড়ানোর সুবিধার্থে নিচে তুলে ধরা হল-

ফুকেট বীচ : ফুকেটের সবচেয়ে বড় সৈকত গুলোর একটি হল ফুকেট বীচ। সমুদ্রের পরিষ্কার স্বচ্ছ পানির সাথে রৌদ্রজ্জ্বল চিকচিক করা বালুএক অন্য রকম মায়াবি পরিবেশ তৈরি করে। এখানে নানা ধরনের জল খেলায় মেতে উঠতে পারবেন। যেমন- সান বাথ, স্নোরকেলিং, সাঁতার, জেট স্কাইং, হবি ক্যাট সেইলিং , প্যারাসেলিং এবং বানানা বোট। প্রতিটি রাইডের জন্য জনপ্রতি খরচ আলাদা।।

কারন ভিউ পয়েন্ট : নই হার্ন এবং কাটা নই বীচের মধ্যে অবস্থিত এই কারন ভিউ পয়েন্ট ফুকেতের জনপ্রিয় পর্যটন স্থানগুলোর মধ্যে একটি। এখান থেকে কাটা নই,কাটা ইয়াই ও কারন সহ তিনটি বীচের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য একটি পছন্দের জায়গা হল এই কারন ভিউ পয়েন্ট। এখান থেকে আন্দামান সাগরের অপূর্ব দৃশ্য চোখে পড়ার মতো।

কোহ পানইয়ী : থাই গ্রামীণ জীবনের আমেজ পেতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন এই ছোট্ট ঐতিহ্যবাহী গ্রাম থেকে। পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণের জায়গা এই থাই গ্রাম। তবে সময় নিয়ে সকাল সকাল যেতে হবে এই গ্রামে তাহলে প্রকৃত মজা পাবেন।

ফি ফি আইল্যান্ড : ফিফি ডন ও ফিফি লে মিলে এই আইল্যান্ড। এখানকার চারপাশের মনোরম পরিবেশ যেকোনো পর্যটকদের জন্য মনোমুগ্ধকর । যেকেউ এখানে গেলে এর নীলচে সবুজ পানির সৌন্দর্যে হারিয়ে যাবে।ফুকেট থেকে প্রতিদিন ক্রুজ চলাচল করে এই আইল্যান্ডে। তাই এখানে যেতে কোনও সমস্যা না হলেও এখানে থাকার জায়গা বেশ কম। এখানে স্নোরকেলিং, সার্ফিং, ডাইভিং ইন শার্ক পয়েন্ট, এনেমনে রীফ এবং কিং ক্রুইসার রিফের মতো কিছু এক্সাইটিং ও রোমাঞ্চকর রাইডের অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।

জেমস বন্ড আইল্যান্ড  : ফাং এনগা পার্কের পাশে এই আইল্যান্ড অবস্থিত। জেমস বন্ড মুভির কিছু দৃশ্যের শুটিং এখানে করায় এর নামকরন করা হয় জেমস বন্ড আইল্যান্ড। এখানেসাঁতার কাটার সাথে সাথে কায়াকিং, সেইলিং করার মতো মজা করতে পারবেন।

রাং হিল : ফুকেটের উত্তর দিকে অবস্থিত এই রাং হিল থেকে পুরো আইল্যান্ডের সৌন্দর্য দেখা যায়। এখানে বাচ্চাদের খেলার জন্য পার্ক, কিছু রেস্টুরেন্ট, বার , ফিটনেস জোন ও একটি আকর্ষণীয় চত্বর আছে।

বিগ বুদ্ধ  :  ফুকেটের একটি উল্লেখযোগ্য মাইল ফলক হল এই বৌদ্ধ মূর্তি। এই বিশাল বৌদ্ধ মূর্তি সাদা মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরি । এখান থেকে ফুকেট শহর ও তার আসে পাশের উপসাগর দেখার সাথে সাথে বিগ বৌদ্ধের ইতিহাস সম্বেলিত জাদুঘরও ঘুরে আসতে পারবেন। বড়দের জন্য এখানে প্রবেশ ফি ৫৫০ বাথ আর ছোটদের জন্য ২৭৫ বাথ।

ওয়াট চালং : ফুকেটের সবচেয়ে প্রাচীনতম ও প্রধান মন্দির হল এই ওয়াট চালং মন্দির। এখানে পোহ থান জাও এবং ননসি এই দুটো সোনালি রঙের বৌদ্ধ মূর্তি পর্যটকদের জন্য বেশ আকর্ষণীয়।

ফান্টাসিয়া  : ফুকেটের নানা ধরনের সাংস্কৃতিক শো এর মধ্যে ফান্টাসিয়া বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। মূলত একটি বিশাল বড় সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গনে বিভিন্ন ধরনের শো হয়ে থাকে আর এই সবগুলো শো একসাথে কিংডম ফান্টাসি নামে পরিচিত। এখানে নানা ধরনের মজার খেলা, দুঃসাহসিক রাইড ও থিম নির্ভর গ্রাম ঘুরে দেখতে পারবেন। রাতের বেলায় এখানে নানা ধরনের শো দেখার সাথে সাথে বুফে রেস্টুরেন্টে খাবারের ও ব্যবস্থা আছে।

বাংলা রোড  : ফুকেটের রাতের শহর দেখতে হলে এখানে অবশ্যই যেতে হবে। সূর্যাস্তের পর পরই এই রাস্তায় অন্য রকম এক আবহ তৈরি হয়। নিয়ন আলোয় চারপাশ ঝলমলে আর হৈ হুল্লোড়ে পরিপূর্ণ রাতের এই রাস্তা। এখানকার ডি ক্লাব , মানি নাইট ও মউলিন রউগ এর মতো ক্লাবে যেতে পারেন। তবে এখানে বাচ্চাদের নিয়ে না যাওয়াই ভালো

ফাং নং বে  : ফুকেটের সবচেয়ে সুন্দর জায়গা গুলোর মধ্যে অন্যতম এই জায়গা। প্রায় ৪০টি ছোট ছোট দ্বীপের উৎস এই উপ সাগর তাই এক দিনে এই পুরো জায়গা ঘুরে দেখা আসলে সম্ভব না। চারপাশের গুহা ও ম্যানগ্রোভ পরিবেশ এক অন্য রকম সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে এই উপসাগরে।

ফুকেট ট্রিকেয়ে জাদুঘর  : ফুকেটের মধ্যে অন্যতম একটি জাদুঘর যা পর্যটকদের সৃজনশীলতা ও কল্পনা শক্তিকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলে। এখানে আসলে পর্যটকরা থাইল্যান্ডের শিল্পের সাথে নতুন ভাবে পরিচিত হবে।

ফুকেট এ্যাকুরিয়াম  : আপনি যদি পানির নিচের জলজ প্রানিদের সৌন্দর্য দেখতে চান তাহলে অবশ্যই এই এ্যাকুরিয়াম থেকে ঘুরে আসতে হবে। এই এ্যাকুরিয়ামে পর্যটকরা বড় একটি সুড়ঙ্গের ভিতর দিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে আসে পাশে বিভিন্ন জলীয় প্রানিদের বিচরণ দেখতে পারে যা এক ভিন্ন ধরনের ভালো লাগার অনুভূতি দিবে।

জুই তুই উপাসানালয় : ফুকেট শহরের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর এই উপাসনালয়। এখানে তিনটি মূর্তি আছে যা ভিন্ন ভিন্ন চীনা দেবতার প্রতিরূপ। আর বিভিন্ন উৎসবে এখানে পটকা ফোটানো হয়।

লা মোয়েট ডে ক্রুজ  :  ফুকেটের ব্যস্ত শহর থেকে একটু নিরিবিলি সময় কাটাতে ও সমুদ্রের চারপাশের মনোরম দৃশ্য দেখতে চাইলে এই ক্রুজের মাধ্যমে ঘুরে আসতে পারেনপ্রশান্ত মহা সাগরের মাঝ দিয়ে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে এই ক্রুজ চলাচল শুরু করে।

এছাড়াও যেতে পারেন ফুকেট ওল্ড টাউন, কাটা নই বীচ, কো মাই তোন  যা হানিমুন আইল্যান্ড হিসেবে পরিচিত, রায়া আইল্যান্ড , নাই হার্ন বীচ, সুরিন বীচ, খাও রাং ভিউ পয়েন্ট, চালং বে রাম ডিসটিলেরি।আবার দেখতে পারেন সিমন ক্যাবারেটের মতো শো।

ফুকেট যাওয়ার উপায়

ব্যাংকক থেকে ট্রেনে , বাসে বা বিমানে ফুকেটে যাওয়া যায়। তবে ট্রেনে গেলে সময় বেশী লাগবে। আবার কম সময়ে একটু বেশী টাকা খরচ করতে চাইলে বিমানেও যেতে পারেন, সেই ক্ষেত্রে ব্যাংককের সূবর্নভূমি বিমান বন্দর থেকে দেড় ঘণ্টার সফর শেষ করে ফুকেটে যেতে হবে।আরা বাসের ক্ষেত্রে, ব্যাংককের সাউদার্ন বাস স্টেশন থেকে ভিআইপি ডিলাক্স বাসে ফুকেট যেতে পারেন, সময় লাগবে  ১১-১২ ঘণ্টা।