গ্রামীন আবহে ছুটি রিসোর্ট

ছুটি রিসোর্ট
ছুটি রিসোর্ট

মোহাম্মদ রাফায়েত উল্লাহ্ ( ঢাকা, মিরপুর প্রতিনিধি) ছুটি রিসোর্ট নামটাতেই কেমন যেন একটা ছুটি ছুটি ভাব এসে যায় তাই না?? জী হ্যা নামের মত রিসোর্ট কাজেও একই রকম, ধরুন সপ্তাহের কাজের ফাকে একদিনের ছুটি পেলেন ব্যাস তাহলেই হলো একদিনের ছুটিতেই ঘুরে আসতে পারেন নান্দনিক ছুটি রিসোর্টটি তে একদিনের সফরেই ঘুরে আসতে পারেন কারণ এর অবস্থান ঢাকার অদূর গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান সংলগ্ন ঘেষেই, এটি  গাজীপুরের জয়দেবপুরে আমতলীর সুকুন্দি গ্রামে ৫০ বিঘা জমির উপরে গরে তোলা হয়েছে এই রিসোর্টটি, যা ভাওয়াল রাজবাড়ি থেকে ৩ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এবং ঢাকা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৩৭ কিলোমিটার।

এখানে আসলে আপনি যেমন পাবেন নান্দনিকতার ছোয়া তেমনি সারাদিন পাবেন ভাওয়াল বনের পাখির কলরব, সন্ধায় পাবেন শেয়ালের ডাক আর রাতে জোনাকির আলো। আর আপনি যদি এখানে রাত্রি যাপন করেন আর সেটি যদি হয় তাহলে তা হবে আপনার জন্য বোনাস কারন এসময় রিসোর্টের নিয়ম অনুযায়ী বৈদ্যুতিক আলো জ্বালানো হয় না! মানে ভরা পূর্নিমা বা বর্ষা বা শীতযাপনের জন্যে ছুটি রিসোর্ট হতে পারে অন্যতম পছন্দের জায়গা। পরিবার, বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, থাকা-খাওয়া এবং বিনোদনের নানানরকম ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। ভিতরে আছে বড় মাঠ, যার চারপাশ ঘিরে বিশাল দিঘী। যেখানে রয়েছে নৌভ্রমনের ব্যবস্থা।

এখানে আপনি আরও পাবেন মৌসুমি ফল যা কতৃপক্ষ আপনাকে সম্পুর্ণ ফ্রি তে দিবে  অতিথিদের জন্য এখানে সকালে পরিবেশন করা হয় চালের নরম রুটি অথবা চিতই পিঠা, সঙ্গে দেশি নানা প্রকার সবজি, ডাল ভুনা ও মুরগির গোশত। একবারে কাছ থেকে বিল-ঝিলের আনন্দ উপভোগ করা যায় এখানে। এছাড়া আপনি যদি শৌখিন হ্ন মাছ ধরার প্রতি তাহলে এখানে মাছ শিকারের সুযোগও রয়েছে আপনার জন্য অবশ্য এ জন্য আপনাকে বাড়তি টাকা দিতে হবে ।

এর ভেতরে রয়েছে বড় বড় ৩টি লেক যা দেখলে মনে হয় যেন একেকটি বিশালাকার বিল। আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডিমিন্টন খেলার মাঠ রয়েছে। এসি, নন-এসি ২১টি কটেজ রয়েছে। এখানে দুই ধরনের থাকার ব্যবস্থা আছে। পরিপূর্ণ গ্রামীণ আমেজের প্রাণময় লোকজ বসবাস অথবা ইট কাঠ বালুর কটেজ। রয়েছে সুইমিং পুল। রয়েছে দুটি কনফারেন্স রুম। খাবার হোটেলে বাংলা, চাইনিজ, ইন্ডিয়ান, থাই, কন্টিনেন্টাল খাবার পাওয়া যায়।
বিশেষ আকর্ষনে রয়েছে সুইমিং পুল, বারবিকিউ কর্নার, এবং ছোট চিড়িয়াখানা । বাচ্চাদের জন্যে আছে কিডস জোন। আর চাইলে তাবু খাটিয়ে থাকবার ব্যবস্থাও আছে। এছাড়া এখানে আরো কিছু ব্যাপারস্যাপার আছে, যেমন অফিশিয়াল মিটিং বা ওয়ার্কশপ এরেঞ্জ করবার ব্যবস্থা আছে।

ওয়ার্কশপ মিটিং-এর জন্যে রয়েছে ২০০ সিটের একটি মিটিং রুম, আর আছে ১০০ সিটের একটি ওয়ার্কশপ রুম। আছে বিজনেস সেন্টার ও ৭৫-৮০টি গাড়ি পার্কিং-এর সুবিধ া।
এখানে অবস্থিত বিভিন্ন কটেজের জন্য আপনাকে ২৪ ঘন্টায় ভাড়া গুনতে হবে সর্বনিন্ম ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার টাকা যার সাথে ২৬/২৭% ভ্যাট যুক্ত হবে
এছারা আপনার যদি হয় ৭-৮ জনের গ্রুপ আর আপনি যেতে চান ছুটি রিসোর্টে তাহলে আপনার জন্য রয়েছে ডে প্যাকেজ, এই প্যাকেজটির জন্য জনপ্রতি আপনাকে গুনতে হবে সর্বনিম্ন ১৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৫০০ টাকা, অবশ্য এ জন্য আপনাকে আগে থেকেই বুকিং দিয়ে যেতে হবে ।

আর আপনি যদি পিকিনিকে যান তাহলে সারাদিনের জন্য পুরো রিসোর্টির ভাড়া পরবে প্রায় ৯০ হাজার টাকা  ঢাকার কাছেই হওয়ায় আপনি খুব সহজেই যেতে পারবেন এখানে, ঢাকার গুলিস্তান বা মহাখালী থেকে যেকোনো বাসে প্রথমে যাবেন গাজীপুর শহরে। সেখান থেকে রিক্সা নিয়ে আমতলী বাজার। আমতলী বাজারের সাথেই ছুটি রিসোর্ট। নান্দনিক গ্রামীন আবহের ছোঁয়া পেতে হলে একদিন শত কাজের বাঁধা পেড়িয়ে ঘুরে আসতে পারেন রিসোর্টিতে মোহাম্মদ রাফায়েত উল্লাহ্‌