বরকলে স্কুল শিক্ষার্থী প্রযুক্তি ছোঁয়ায় দক্ষ হচ্ছে।

barkol creation


নিরত বরন চাকমা( রাঙামাটি, বরকল প্রতিনিধি):ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। ইচ্ছায় সবকিছু পারে বলে মন্তব্য করেন স্কুল শিক্ষার্থী দেব রানী চাকমা। দেব রানী চাকমার বাড়ি হলো বরকল উপজেলার ৪নং ভূষণছড়া ইউনিয়নের রদংহাবা নামক একটি ছোট্ট গ্রামে। ঐ গ্রামটি যেমনি দূর্গম তেমনি পশ্চাৎপদও বটে। আর সেই দূর্গম এলাকার প্রতিভাবান নারী হলেন দেব রানী চাকমা।

বর্তমানে সে বরকল মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগের নবম শ্রেণী ছাত্রী। বয়স চৌদ্দ। তার ক্লাস রোল ৩(তিন)। তার পিতার নাম মেয়ে ধন চাকমা,মাতা সীতা চাকমা। কৃষি কাজই হলো মেয়ে ধনের একমাত্র উৎস। তাঁর সামান্য রোজগারে বাঁচা মোরা করে জীবন সংসার চলে। তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছয় জন।তার মধ্যে মেয়ে সন্তান হলো চার জন। চার মেয়ের মধ্যে দেব রানী চাকমা তিন নম্বরে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় বরকলের চাইল্যাতলী এলাকায় দুই বোনে বাসা ভাড়া করে থাকেন। দেব রানী চাকমা লেখাপড়ায় যেমনি ভালো তেমনি সৃজনশীলতার দক্ষতাও রয়েছে। গত ২০১৬ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিধেয় বস্ত্রেও কারুকার্য করেন। বরকলে স্কুল শিক্ষার্থীর প্রযুক্তি ছোঁয়ায় দক্ষ হচ্ছে। হাতে কলমে কাগজের উপর বিভিন্ন ধরনের নকশার মধ্যে পরিধেয় বস্ত্রেও ছবি আঁকেন। বলতে গেলে একরকম ডিজাইনার। তার আঁকা ছবি দেখে তাঁর সহপাঠীরা ছয় সাতটি পরিধেয় বস্ত্র সেলাই করেছে বলে মন্তব্য করেন দেব রানী চাকমা দেব রানী চাকমাকে কখন কোথায় এবং কিভাবে এই হাতের কাজটি শিখেছে প্রশ্ন করা হলে জবাবে তিনি বলেন- ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে আমার এই ডিজাইনের কাজটা শিখা হয় এবং ছবি আঁকা আমার খুব পছন্দ। তাই শখ করে ছবি আঁকতে আঁকতে ডিজাইনের কাজটি শিখে ফেলি।

এই কাজে আগ্রহ এবং অনুভূতি কেমন প্রশ্ন করা হলে জবাবে তিনি বলেন- আমার আগ্রহ অনেক। ডিজাইনের কাজটি কারো কাছ থেকে শেখা হয়নি। আমার প্রতিভা আমাকে আগ্রহী করে তুলেছে। আমার ডিজাইন করা আঁকা ছবি দেখে কোন সহপাঠী বা বড় জন কেউ যদি বলে বাহ্ ছবির ডিজাইনটা খুব সুন্দর হয়েছে তখন আমার মনে আরো দ্বিগুন আগ্রহ বেড়ে যায়।

তিনি আরো বলেন- আমার স্বপ্ন হলো ভবিষ্যতে বড় নার্স হওয়া। পাশাপাশি তার সৃজনশীল দক্ষতায় কারোর সহযোগিতা পেলে অনেক দূর এগিয়ে যাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।