সিলিকন সিটির অপেক্ষায় এখন রাজশাহীর তারুণ্য

মোঃ মোবারক আলী,রাজশাহী : রাজশাহীতে নতুন দুয়ার খুলছে কর্মসংস্থানের। প্রত্যাশিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সিলিকন সিটির অপেক্ষায় এখন রাজশাহীর তারুণ্য। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২১ সালের মধ্যে বিশাল কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে খুলে যাবে হাজারো প্রযুক্তিনির্ভর তারুণ্যের স্বপ্নের দুয়ার। এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে প্রায় ১৪ হাজার মানুষের। শিক্ষানগরী রাজশাহীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ধরনের অবদান রাখবে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সিলিকন সিটি। তাই এখন থেকেই স্বপ্ন দেখছেন রাজশাহীর তারুণ্য।রাজশাহীতে এ সিলিকন সিটির নির্মাণ কাজের মধ্য দিয়ে নতুন স্বপ্ন উঁকি দিতে শুরু করেছে। শুধু এ সিলিকন সিটির মাধ্যমে বদলে যেতে পারে বড় ধরনের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত। এমনটাই ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা্র।

প্রকল্পের তথ্য : ১। বিভাগের নামঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২। বাস্তবায়নকারী সংস্থাঃ বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ৩। প্রকল্পের নামঃ “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক স্থাপন”  শীর্ষক প্রকল্প ৪। বাস্তবায়ন কালঃ জুলাই, ২০১৬ হতে জুন, ২০১৯ ৫। প্রকল্প এলাকাঃ নবীনগর মৌজা,  পবা,  রাজশাহী ৬। প্রাক্কলিত ব্যয় (লক্ষ টাকায়) : ২৩৮২৪.৭০ লক্ষ টাকা।৭।অর্থের উৎসঃ GOB  ৮।অনুমোদনের তারিখঃ একনেক সভায় গত ২২/১২/২০১৬ খ্রিঃ তারিখে অনুমোদিত হয়। গত ১৩/০৩/২০১৭ খ্রিঃ তারিখে একনেক কর্তৃক সরকারি আদেশ জারী করা হয়।তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক ১৯/০৩/২০১৭ তারিখে সরকারি আদেশ জারী করা হয়।

৯। প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্যঃ ১.  রূপকল্প ২০২১ এর লক্ষ্য অর্জন এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রাজশাহী অঞ্চলে হাই-টেক শিল্পের বিকাশ।
২. মৌলিক অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে হার্ডওয়্যার তৈরির মাধ্যমে হার্ডওয়্যার, সফ্টওয়্যার এবং আইটিইএস শিল্পপ্রতিষ্ঠা  ও কার্য পরিচালনার জন্য বিদেশী কোম্পানী আকৃষ্ট করতে সহায়ক পরিবেশ তৈরী। ৩. আইটি শিল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটদের উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি। ৫. উত্তরাঞ্চলে আইটি শিল্পের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করণ। ৬. প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ১০। (ক) প্রকল্পের আওতায় গৃহীতব্য কার্যাবলী/ প্রধান প্রধান অঙ্গের বিবরণ নির্মাণাধীন প্রতিটি ভবনের মোট ফ্লোর ১০ টিপ্রতি ফ্লোরের আয়তন ২০,০০০ বর্গফুট। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যদি থাকে তবে মোট ব্যাচ, প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা, ইত্যাদি ৩,৩৩৭ জন।

১১। প্রকল্পের আওতায় কতজন লোকের কর্মসংস্থান হবে ১৪,০০০ জন। এ সিলিকন সিটির মাধ্যমে রাজশাহীতো বটেই বাংলাদেশকে নতুন করে চিনবে পুরো বিশ্ব। রাজশাহী সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক সিলিকন সিটির নির্মাণের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বপ্ন সফল হতে চলেছে। এই সিলিকন সিটির কাজ শেষ হলে ১৪ হাজার তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান হবে। যা রাজশাহীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ধরনের অবদান রাখবে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, সিলিকন সিটি রাজশাহীর স্বপ্ন। এটি এখন বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। তিনিই প্রথম এখানে তারুণ্যের কর্মসংস্থানের জন্য এ সিলিকন সিটির পরিকল্পনা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক চেষ্টায় এ স্বপ্ন এখন রাজশাহীর দুয়ারে কড়া নাড়ছে। লিটন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির আদলে এই সিলিকন সিটি নির্মিত হতে যাচ্ছে রাজশাহীতে।

যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো এবং সান হোসে শহরের মাঝামাঝিতে ৩০০ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা সিলিকন ভ্যালি ইন্টারনেট সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। সেটির আদলে গড়ে উঠতে যাওয়া রাজশাহীর এই সিলিকন সিটিতেও তৈরি হবে বিশ্বমানের প্রযুক্তি পণ্য।২০২১ সাল নাগাদ রাজশাহীকে সারা বিশ্বই চিনবে এই হাই-টেক পার্কের মধ্য দিয়ে। রাজশাহীর মানুষ শুধু শ্রমনির্ভর থাকবে না। ভারতের ব্যাংগালোর, আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো ও ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন সিটির মতো বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্কে বিশ্বমানের সফটওয়্যার তৈরি হবে। শুধু মেধার বিকাশ ঘটিয়ে রাজশাহীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করা হবে।