অপরূপ মুঘল স্থাপনা লালবাগ কেল্লার ইতিবৃত্ত

lalbag

রাকিবুজ্জামান সজল,ঢাকা,মোহাম্মদপুর প্রতিনিধিঃ   মুঘলরা বাংলায় বহুকাল শাসন করে গেছে।তারা চলে যাবার পরেও তাদের ভাবগাম্ভীর্য রয়েছে এখানকার স্থাপত্যশিল্পে। তাদের এমনই একটি স্থাপনা হলো ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত একটি অসমাপ্ত মুঘল দুর্গ লালবাগ কেল্লা।

মুঘল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন লালবাগ কেল্লার নামকরণ করা হয়েছিলো এলাকার উপর ভিত্তি করে।যদিও প্রথমে এর নাম ছিলো কেল্লা আওরঙ্গবাদ। এটি মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব এর পুত্র আর সম্রাট শাহজাহানের দৌহিত্র শাহ আজমের নকশায় মোঘল আমলের বাংলাদেশের এই একটি মাত্র ইমারতে মার্বেল পাথর, কষ্টি পাথর ও বিভিন্ন রং এর ফুল-পাতা সুশোভিত চাকচিক্যময় টালির সাহায্যে অভ্যন্তরীণ নয়টি কক্ষ অলংকৃত করা হয়েছে।কক্ষগুলির ছাদ কষ্টি পাথরে তৈরি।মূল সমাধি সৌধের কেন্দ্রীয় কক্ষের উপরের কৃত্রিম গম্বুজটি তামার পাত দিয়ে আচ্ছাদিত।

শাহ আজম ১৬৭৮ সালে ১৫ মাস ঢাকায় থাকাকালীন এই দূর্গ নির্মানের কাজ শুরু করলেও তাকে মারাঠা বিদ্রোহে দিল্লীতে চলে যেতে হয় পরে মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের জন্য শায়েস্তা খাঁর কন্যা ইরান দুখত রাহমাত বানুর(পরী বিবি)মৃত্যুর কারণে ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে অসমাপ্ত অবস্থায় এর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।অকালমৃত্যুর পর তাঁকে নির্মাণাধীন লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে সমাহিত করা হয়।রাজকীয় মুঘল আমল সমাপ্ত হওয়ার পর দুর্গটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়ে যায়।১৮৪৪ সালে এলাকাটি “আওরঙ্গবাদ” নাম বদলে “লালবাগ” নাম পায় এবং দুর্গটি পরিণত হয় লালবাগ দুর্গে।

১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।অবশেষে নির্মাণের ৩০০ বছর পর গত শতকের আশির দশকে লালবাগ দুর্গের যথাসম্ভব সংস্কার করে এর আগের রূপ ফিরিয়ে আনা হয় এবং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

কেল্লার চত্বরে স্থাপনার মধ্যে আছেঃ ১।কেন্দ্রস্থলের দরবার হল ও হাম্মাম খানা ২।পরীবিবির সমাধি ৩।উত্তর পশ্চিমাংশের শাহী মসজিদ।লালবাগ কেল্লায় শায়েস্তা খাঁর বাসভবন ও দরবার হল সর্বসাধারণের দেখার জন্যে উন্মুক্ত রয়েছে সেখানে দেখার মতো মুঘল আমলের বিভিন্ন হাতে আঁকা ছবির আছে যেগুলো দেখলে যে কেউ মুগ্ধ না হয়ে পারবে না।

শায়েস্তা খাঁ এর ব্যবহার্য নানান জিনিসপত্র সেখানে সযত্নে রয়েছে আরও আছে তৎকালীন সময়ের বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র, পোশাক, সে সময়কার প্রচলিত মুদ্রা ইত্যাদি।প্রায় প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীর পদচারণয় মুখরিত হয় ঢাকার লালবাগ এলাকার এই দুর্গটি।ইতিহাসের অনন্য সাক্ষী হিসেবে এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এই মুঘল স্থাপনা যা দেখে সকলের মন জুড়ায়।