শত বছর পার করেছে পাবনায় ব্রিটিশ আমলের হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

Image_156

অলোক আচার্য (পাবনা প্রতিনিধি) পাবনা জেলায় ভেতর উলেস্নখযোগ্য হলো পদ্মা নদীর ওপর ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। শত বছরের স’ায়িত্বের গ্যারান্টি দিয়ে নির্মিত এই রেলসেতু আজও ব্রিটিশ সময়ের স’াপত্যের নিদর্শন বহন করে চলেছে। ২০১২ সালে এই সেতু ১০০ বছর পার করেছে।

১৮৮৯ সালে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় উপমহাদেশে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি করার লড়্গ্যে পদ্মা নদীর ওপর রেলসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করে। বিশেষ করে ভারতের দার্জিলিং ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে যাতায়াতের সুবিধার জন্য বর্তমান বংলাদেশের কুষ্টিয়া ও পাবনা জেলার সীমারেখা পদ্মা নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের কাজ আরম্ভ করে। শত বছরের গ্যারান্টি দিয়ে ব্রিটিশ সরকার বলেছিল এর মধ্যে ব্রিজটির কোন পরিবর্তন ঘটবে না। বাসত্মবিক পড়্গেই তা ঘটেনি। তবে সেই সময় পার হয়ে যাওয়ার পর সবার মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কতদিন ব্রিজটি একইরকম অড়্গত অবস’ায় থাকবে। ওই সময় পদ্মা নদীর পূর্বতীর বর্তমান কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা গোলাপনগর সাঁড়াঘাট আর পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়াঘাট ছিল দেশের অন্যতম বড় এবং ব্যসত্ম নদীবন্দর।

এসময় পণ্য পরিবহনকালীন সময়ে মাঝে মধ্যেই লঞ্চ, স্টিমার ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটতো এবং পন্য এবং প্রাণহানি ঘটতো। এসব প্রেড়্গাপট বিবেচনায় নিয়ে দার্জিলিং ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে দেশী বিদেশি পর্যটক যাতায়াত ও মালামাল পরিবহণের সুবিধার্থে ভারতের কাঠিহার থেকে রেলপথ আমিন গাঁ আমনুরা পর্যনত্ম সম্প্রসরারিত করার পরিকল্পনা করা হয়। ১৯৮৯ সালে ব্রিজ তৈরির সেই প্রসত্মাবের ওপর ভিত্তি করে ১৯০২ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যনত্ম ব্যাপক স্টাডি করে ম্যাচ এফজে ইস্প্রিং একটি বিসত্মারিত প্রতিবেদন তৈরি করে। দীর্ঘ জরিপের পর সাঁড়াঘাটের দড়্গিণে ব্রিজ নির্মাণের সম্ভাব্যতার তথ্য সরকারের কাছে সরবরাহ করা হয় এবং ১৯০৭ সালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মধ্যবর্তী পদ্মা নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা চুড়ানত্ম করে। ব্রিজ নির্মাণের মঞ্জুরি লাভের পর ব্রিটিশ ইঞ্চিনিয়ার রবার্ট উইলিয়াম গেইলসকে ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ হিসেবে, ব্রিজের মুল নকশা প্রনয়ণের জন্য স্যার এসএম বেনডেলেগকে ও প্রকল্প প্রণয়নের জন্য স্যার ফ্রান্সিস স্প্রিং এবং ঠিকাদার হিসেবে ব্রেইথ ওয়াইট অ্যান্ড ক্লার্ককে দায়িত্ব দেয়া হয়।এরপর শুরম্ন হয় কূপ খনন, বসানো হয় ১৫ টি স্প্যান, প্রতিটি স্প্যানের ওজন ১ হাজার ২৫০ টন।

ব্রিজটির মোট দৈর্ঘ্য ৫ হাজার ৮৯৪ ফুট। শ্রমিকদের অক্লানত্ম পরিশ্রমের পর ১৯১৪ সালের শেষ দিকে ব্রিজটির কাজ শেষ করে। ১৯১৫ সালের ১ জানুয়ারি পরীড়্গামূলকভাবে ডাউন লাইন দিয়ে প্রথম মালগাড়ি (ট্রেন) চালানো হয়। দুই মাস পর ৪ মার্চ ডাবল লাইন দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরম্ন করে। সে সময় ব্রিজটি ট্রেন চলাচলের জন্য উদ্বোধন করেন তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ। তার নামানুসারেই ব্রিজটির নামকরণ হয় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। তখনকার সময় ব্রিজটি তৈরিতে মোট ব্যয় হয় ৩ কোটি ৫১ লাখ ৩২ হাজার ১৬৪ টাকা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী ব্রিজটির ওপর একাধিক বোমা বর্ষন করে।

এতে পিলারের ওপর থেকে ১২ নং স্প্যানটির (গার্ডার)  এক প্রানত্ম নদীর মাঝে পরে যায় (বিষয়টি নিয়ে প্রত্যড়্গদর্শীর মতপার্থক্য রয়েছে)। তবে শেষ কথা হলো ব্রিজটি এখন পাবনা জেলার একটি ঐতিহ্য। ব্রিজটি দেখতেও দুর দুরানত্ম থেকে অসংখ্য মানুষ ছুটে আসে। ব্রিটিশ সময়কার এই স’াপত্য দেখতে পর্যটকদেরর রয়েছে আকর্ষণ।